ঢাকা, রবিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

২১ বছরের প্রতীক্ষা ফুরাবে এবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২২ ১২:০৫:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২২ ১২:০৫:৩২ পিএম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দুরপাল্লার পরিবহন চিত্রের এক বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

নগরীকে আরো আধুনিক এবং বদলের দেয়ার মতোই এক সড়ক প্রকল্প হল ‘ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বাইপাস সড়ক’।

২১ বছর আগে মাত্র ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিলো। নানা বাধা প্রতিকুলতা আর প্রতিবন্ধকতা শেষ করে ৩২০ কোটি টাকার এই প্রকল্প সফলভাবে শেষ হতে যাচ্ছে।

প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হবে বলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট এড়াতে এবং ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর সংযোগ সংক্ষেপিত করে দ্রুত যাতায়ত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থেকে ফৌজদারহাট (বাইপাস) সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে সিডিএ।

২১ বছর আগে ১৯৯৭ সালে সুউচ্চ পাহাড় কেটে দুই লেনের ছয় কিলোমিটার এই সড়কটি নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪০ কোটি টাকা। ১৯৯৯ সালেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও প্রকল্পের শুরুতেই পাহাড়ি ঢল, পাহাড় কাটাসহ নানা প্রতিকুলতার কারণে শুরুতেই প্রকল্পটি থেমে যায়।

পরবর্তীতে ২৭০ কোটি টাকায় নতুন করে দুই লেনের এবং পরে আরো ১৭২ কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটি চার লেনের সড়ক প্রকল্পে উন্নীত করা হয়। পরে সর্বশেষ ৩২০ কোটি টাকায় চারলেন সড়ক প্রকল্প হিসেবে একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৬ সালে।

এরপর প্রকল্পটি গতি পেলে কাজ দ্রুত এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির ৯৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

বায়েজিদ-ফৌজদারহাট বাইপাস সড়ক প্রকল্পের পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ রাইজিংবিডিকে জানান, নানা প্রতিকূলতা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই সড়কে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস রাইজিংবিডিকে জানান, ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থের এই সড়কটি চার লেনের। সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণ করা হয় ৯১৯ দশমিক ৭৮ কাঠা জমি। এক রেলওয়ে ওভারব্রিজসহ আট কালভার্ট নির্মাণ ও সাত কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হয়েছে সড়ক নির্মাণে।

এছাড়া পাহাড়-টিলার পাদদেশে উঁচু-নিচু এলাকার মধ্য দিয়ে বাইপাস এই সড়ক নির্মিত হয়েছে। তবে পাহাড়-টিলার সৌন্দর্য অক্ষত রেখে নির্মাণ করা হয় সড়কটি। সড়কটি চট্টগ্রাম নগরের আউটার রিং রোডের এক অংশ হিসেবে সম্প্রসারিত।

এ সড়কের বহুমাত্রিক সুফলের কথা উল্লেখ করে প্রধান প্রকৌশলী জানান, উত্তর চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলার যানবাহনগুলো প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক ও অনেক যানজট পেরিয়ে ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে হতো।

এখন বাইপাস সড়ক ধরে মাত্র ছয় কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হতে পারবে যানবাহন। এতে চট্টগ্রাম নগরের যানজট কমবে। পর্যটকদের যাতায়ত বাড়বে পার্বত্যাঞ্চলের। এছাড়া রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজারসহ উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সব যানবাহন মূল শহরে প্রবেশ না করেই বাইপাস সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠে যেতে পারবে।



চট্টগ্রাম/রেজাউল/বুলাকী

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিভাগ
ট্যাগ :