ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আল্লাহ মোর ছুয়াটাক সুস্থ রাখিস’

হিমেল তালুকদার : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-০৫ ৪:২৩:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-০৫ ৯:০০:৪৩ পিএম

ঘরের দেয়ালে মাথা হেলিয়ে রাখা, চোখে জল। মুখে শুধু একটাই কথা- ‘আল্লাহ মোর ছুয়াটাক সুস্থ রাখিস। রহমত করিস। ছুয়াটা যাতে সুস্থ থাকে।’

বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন চীনে পড়তে যাওয়া মোকছেদুল মমিনের মা মনোয়ারা বেগম। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলাখুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে চীনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য গেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়াও জেলার শতাধিক ব‌্যবসায়ী গেছেন সেখানে। কিন্তু দেশটিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেইসব পরিবারের সদস্যরা। শিক্ষার্থী ও ব‌্যবসায়ীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গত বছর মোকছেদুল মমিনকে পড়াশোনার জন্য চীনে পাঠানো হয়। সবকিছু ঠিক ছিল। হঠাৎ চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। ছেলের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ হওয়ার পরও দুশ্চিন্তা কমছে না তাদের। বাবা খাদেমুল ইমলাম বলেন, ‘অনেক কষ্টে কৃষিকাজ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। পড়াশোনা করে বুড়ো বাবা-মায়ের পাশে থাকবে, পূরণ করবে আমাদের সকল স্বপ্ন। কিন্তু এখন তো শুনছি সেখানে যে বালাই (রোগ) তাতে মেলা লোক মারা যাচ্ছে। ছেলেকে সুষ্ঠুভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করছি।’

চীন থেকে এক ভিডিও বার্তায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মোকছেদুল মমিন বলেন, ‘রুম থেকে বের হতে পারছি না। আমরা যাতে খুব প্রয়োজন ছাড়া বের না হই এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি, যাতে দ্রুত আমাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’

নাসির উদ্দিন নামে আরেক শিক্ষার্থী ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আমাদের ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা সবসময় আমাদের স্বাস্থ্যের খবর রাখছেন। আমরা যারা এখানে এসেছি, এখন পর্যন্ত কারো কোনো সমস্যা হয়নি। স্বজনদের বলতে চাই- চিন্তার কারণ নেই। আশা করি, আমরা ভালো থাকব।’

ছেলে সৈয়দ আশিকুজ্জামানের জন্য দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলা সদরের সৈয়দ আব্দুল করিম। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে পড়াশোনার জন্য চীনে সন্তানকে পাঠিয়েছি। ভাইরাসের কথা শোনার পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। যদিও ছেলে বলেছে, সে সুস্থ, এরপরও দুশ্চিন্তা কমছে না।’

শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করছি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানোর।’

এই ভাইরাস এখনো দেশে প্রবেশ না করলেও প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.নাদিরুল আজিজ বলেন, ‘আমরা একটি আলাদা ওয়ার্ড করেছি। যেখানে সধারণ রোগীদের প্রবেশাধিকার থাকবে না। ওই ওয়ার্ডে যে নার্স থাকবে তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’


ঠাকুরগাঁও/ইভা/তারা

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : ঠাকুরগাঁও, রংপুর বিভাগ
ট্যাগ :