ঢাকা, সোমবার, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কেশবপুরে দুধ দিয়ে ধোয়া হলো কৃষকলীগের কার্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৮ ১০:০০:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৯ ১২:০৮:০৮ এএম

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় দুধ দিয়ে ধুয়ে ‘পবিত্র’ করা হয়েছে কৃষকলীগের কার্যালয়।

‘হাতুড়ি বাহিনী ও গামছা বাহিনী’ দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়টি দখল করে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল। এর আগে ওই কক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। বাহিনীর সদস্যরা গা ঢাকা দিলে মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অফিসটি দখল নেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচে কৃষকলীগের অফিসটি ২০১৪ সালে হাতুড়ি ও গামছা বাহিনী দখলে নেয়। এরপর উপজেলার বিভিন্ন মাছের ঘের দখল, মাদক ব্যবসা ও সেবন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, বাজার লুটসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখান থেকে পরিচালনা করা হতো। তাদের অত্যাচারে আতঙ্কে থাকত কেশবপুরবাসী।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারকে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করা হয়। এরপর হাতুড়ি ও গামছা বাহিনীর সদস্যসহ তাদের গডফাদাররা গা ঢাকা দেন। আওয়ামী লীগের নির্যাতিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে হাতুড়ি ও গামছা বাহিনীর সদস্যদের খুঁজতে থাকেন। তাদের দখলে থাকা বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ অফিস দখলমুক্ত করে গরুর দুধ দিয়ে ধুয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইকবাল।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ধোয়ামোছার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে হাতুড়ি বাহিনীর দখলে থাকা কক্ষটি খোলা হয়। এ সময় পুলিশ ওই কক্ষ থেকে দুটি ধারালো দা, চারটি তলোয়ার, একটি কিরিচ ও ফেনসিডিলের সাতটি বোতল উদ্ধার করে। এরপর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ গরুর দুধ দিয়ে কক্ষটি ধুয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন বলেন, ছয় বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই কক্ষে ঢুকতে পারেননি। মঙ্গলবার অফিসে এসে জানতে পারি, পুলিশ হাতুড়ি ও গামছা বাহিনীর দখলে থাকা কক্ষটির তালা খুলে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান খন্দকার আব্দুল আজিজ ও গামছা বাহিনীর প্রধান খন্দকার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ অফিস দখল করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। তাদের বিরুদ্ধে কেশবপুর ও মণিরামপুর থানায় ডাকাতি, বাজার লুট, নারী নির্যাতন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাছের ঘের দখলের অভিযোগে অসংখ্য মামলা আছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হতো। তাদের ভয়ে  কেশবপুরবাসী ছিল আতঙ্কিত।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।


যশোর/রিটন/রফিক

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : যশোর, খুলনা বিভাগ
ট্যাগ :