ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ: বিপাকে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা (ভিডিও)

আব্দুল্লাহ আল নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৬ ৭:১৮:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৬ ৭:১৮:১৭ পিএম

সড়কের দুই পাশ জুড়ে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। সেই খুঁটিতে ঝুলে আছে তার। বিদ্যুতের তার ছাড়াও ঝুলছে ইন্টারনেট, টেলিফোন, স্যাটেলাইট সিস্টেমের ক্যাবলও। মাকড়সার জালের মতো মাথার ওপরের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন ক্যাবলের জঞ্জাল। সিলেট নগরের প্রত্যেক সড়কের চিত্রই এমন।

অবশ্য, উন্মুক্ত তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিলেট নগর। প্রাথমিকভাবে দরগাহ গেইট এলাকাকে তারবিহীন সড়ক হিসেবে রূপ দেয়া হয়েছে। এখন নগরের ইলেকট্রিক সাপ্লাই-আম্বরখানা-চৌহাট্টা-সিটি পয়েন্ট-সার্কিট হাউস;  চৌহাট্টা পয়েন্ট-রিকাবীবাজার-নবাব রোড বাগবাড়ী পিডিবি অফিস এবং পূর্ব জিন্দাবাজার-জেলরোড সড়কে ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে এসব এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এ কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ওভারহেড তারসমূহ অপসারণ কাজ শুরু হবে। খুঁটি অপসারণের কারণে কাটা পড়বে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ক্যাবলও। এজন্য তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) এর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

সিটির এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন আইএসপি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বৈদ্যুতিক ক্যাবলের সঙ্গে ইন্টারনেট ক্যাবলগুলো ভূগর্ভস্থ করার জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রকে তাদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো ধরনের পদক্ষেপ ছাড়াই সম্প্রতি গণমাধ্যমে নোটিশ দিয়ে জানিয়েছেন সিলেটে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হলে তিনি কিংবা সিটি করপোরেশন দায়দায়িত্ব নেবে না। এমন পরিস্থিতিতে সিলেটে ইন্টারনেট সেবায় বিপর্যয় নেমে আসার আশংঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগের জন্য তারা বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে থাকেন। সেই খুঁটি না থাকলে তারা ইন্টারনেটের তার টানতে পারবেন না। আর মাটির নিচ দিয়ে তার নিয়ে যাওয়ার অনুমতি তাদের নেই। বিটিআরসি থেকে বিটিসিএল এবং এনটিটিএন লাইসেন্স প্রাপ্ত দুই প্রতিষ্ঠান মাটির নিচ দিয়ে লাইন নিয়ে যেতে পারে। এজন্য তারা এনটিটিএন’র সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন; কিন্তু এনটিটিএন যেসব শর্ত আরোপ করছে, তাদের কথামতো ইন্টারনেট ক্যাবল ভূগর্ভস্থ করতে গেলে গ্রাহকের খরচ প্রায় ৫ গুণ বেড়ে যাবে। ফলে তারা রাজি হননি। এমতাবস্থায় বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নিলে তাদের প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়বে।

মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সিলেটে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের সংগঠন সিলেট আইএসপি অ্যাসোসিশনের নেতারা বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত পিডিবির খুঁটি না সরানোর অনুরোধও জানিয়েছেন।

সিলেট আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মুহিবুর রহমান ইমন বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় ৪০ থেকে ৪৫টি ইন্টারনেট কোম্পানী বিটিআরসির লাইসেন্স নিয়ে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ হাজার। বিকল্প ব্যবস্থা না করতে পারলে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়বে।

সিলেট নেট ব্রডব্যান্ডের পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, জিন্দাবাজার এলাকায় সব ইন্টারনেট কোম্পানির প্রধান কার্যালয়। এখান থেকে পুরো নগরীতে ইন্টারনেট সেবা দেয়া হয়। এ কারণে জিন্দাবাজার এলাকার খুঁটি অপসারণ করলে পুরো নগরীতে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হবে। তাদের সাতদিনের নোটিশ দেয়া হয়েছে। খুঁটি অপসারণ হলে ব্যাংক, বীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব পড়বে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শাহজালাল মাজার এলাকার বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার ফলে ওই এলাকায় গ্রাহকরা ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ওই এলাকায় একটি ব্যাংকসহ বড় দু/তিন প্রতিষ্ঠানে বিকল্প উপায়ে সংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে সাধারণ গ্রাহকরা এখনও ব্রডব্যান্ড কানেকশন পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম জানান, পিডিবির পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং অভারহেড তারগুলো অপসারণ করা হবে। এর ফলে খুঁটিসমূহে স্থাপিত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ক্যাবল অপসারিত হবে। এ ব্যাপারে আইনগতভাবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।

তারবিহীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কে এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ শেষ হলে সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেয়া হবে। এজন্য ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট ক্যাবলসহ স্থানীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ দায়িত্বে গ্রাহকদের লাইন সঞ্চালন করবে।

 

সিলেট/নোমান/বকুল

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : সিলেট, সিলেট বিভাগ