ঢাকা, বুধবার, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৮ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

জ্বীনের বাদশার নির্যাতনে মৃত্যুশয্যায় কলেজছাত্রী!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৮ ১২:০৭:১৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৮ ৯:১৬:৪১ পিএম

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জ্বীনের বাদশা সেজে এক কলেজ ছাত্রীকে (২০) নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই কলেজ ছাত্রী মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন।

গত সোমবার (২৪) ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার মাদারিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে কথিত জ্বীনের বাদশা হাজী দারোগ আলী পলাতক রয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়ভাবে কথিত জ্বীনের বাদশা দারোগ আলী প্রভাবশালী হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পিতৃহীন অসহায় শাহনাজের পরিবার।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাহনাজ তার মা ও এক প্রতিবন্ধী চাচার সাথে বসবাস করতেন। গত সোমবার হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রতিবেশী হাজী দারোগ আলী তাকে দেখতে এসে বলে, ‘শাহনাজকে জ্বীনে ধরেছে। জ্বীনের বাদশা ছাড়া তাকে বাঁচানো যাবে না।’ এসময় দারোগ আলী নিজেকে জ্বীনের বাদশা দাবি করে ওই কলেজ ছাত্রীর সারা শরীরে স্পর্শ করে ঝাড়-ফুঁক দিতে থাকে। এক পর্যায়ে কথিত জ্বীনের বাদশা দারোগ আলী ওই ছাত্রীকে ব্যাপক মারধর করে শারীরিক নির্যাতন করে।

পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক রাত বারটার দিকে শাহনাজকে পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে শাহনাজের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকালে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু নির্যাতনকারী কথিত জ্বীনের বাদশার প্রভাবে সেদিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুমুর্ষু অবস্থায় শাহনাজকে ছুটি দিয়ে দেয়। পরে শাহনাজকে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সে তার নিজ বাড়ীতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

শাহনাজের বিধবা মা বলেন, ‘রাতে পুলিশ এসেছিল। আমি ভয়ে বলেছি, শাহনাজ খাট থেকে পড়ে চোখে ব্যাথা পেয়েছে। কিন্তু আসলে দারোগ আলীর নির্যাতনে আমার মেয়ের চোখ এমন হয়েছে’।

কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু নির্যাতনের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।’


টাঙ্গাইল/শাহরিয়ার সিফাত/নাসিম 

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : টাঙ্গাইল, ঢাকা বিভাগ
ট্যাগ :