ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ট্রাক উল্টে নিহত ৬: বেপরোয়া গতিসহ তিন কারণ দেখছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৮ ৫:৩৮:৫১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৮ ৮:৪৫:১৪ পিএম

অতিরিক্ত পণ্য বহন, বেপরোয়া গতি আর চালকের অসর্তকার জন্যই আজ (২৮ মার্চ) শনিবার টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এমনই ধারণা করছে ট্রাফিক ও জেলা পুলিশ।

সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে এই দুর্ঘটনায় হতাহতরা সবাই ছিলেন নিম্নআয়ের দিনমুজুর। তারা ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই ট্রাকটিতে উঠেছিলেন। যাচ্ছিলেন টাঙ্গাইল, রংপুর, বগুড়াসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায়।

দেশে করনোভাইরাসের প্রভাব ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। পাশাপশি জনসাধারণের চলাচল ও সামাজিক দূরত্ব তৈরির লক্ষ্যে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথে সব ধরনের যাত্রীবাহী গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছে সরকার। কিন্তু সড়ক পথে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জরুরি পণ্য, কাঁচামাল ও ঔষুধবাহী ট্রাকা-পিকআপ-কাভার্ডভ্যানকে রাখা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে। তবে এই সব পরিবহনে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা আগে থেকে থাকলেও সাধারণ যাত্রী আর বেশিরভাগ চালকরা সেই নিষেধাজ্ঞা পালন করেন না। আর এই সকল পরিবহনের বেশিরভাগ যাত্রীরাই থাকেন নিম্নআয়ের দিনমজুর ও শ্রমজীবী শ্রেণির। দূরত্ব অনুযায়ী সাধারণ গণপরিবহনের ভাড়ার চেয়ে কম খরচে যেতে পারায় তাদের অনেকেই গন্তব্য পৌঁছতে বেছে নেন এই সকল ট্রাক-পিকআপ।

তেমনই আজ শনিবার ভোরে প্রায় ৩০ জন নিম্নআয়ের দিনমজুর শ্রেণির মানুষ করোনা আতঙ্কে প্রায় ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যেতে বেছে নিয়েছিলেন বগুড়া ট-১১-১১৭১ নাম্বারের সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকটি। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত সিমেন্টের বস্তা থাকার পরও, অল্প খরচের জন্য গতকাল মধ্যরাতে সেই মানুষগুলো যাত্রী হয়ে উঠেছিলেন ট্রাকটির ছাদে।

যাত্রীদের বরাত দিয়ে টাঙ্গাইল সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোশারফ হোসেন রাইজিংবিডিকে জানান, গভীর রাতে গন্তব্যের পথে রওনা হওয়ায় ও রাস্তা ফাঁকা থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতেই ট্রাক চালাচ্ছিলেন চালক। মহাসড়কের চারলেনের বেশিরভাগ স্থানে কাজ প্রায় সমাপ্ত হওয়ায় নির্বিঘ্নেই এখন চলাচল করা যায়। কিন্তু কান্দিলা নামক সেই স্থানটিতে মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান ছিল আর সেখানে চলাচলের জন্য একটি ব্রিজও রয়েছে। ব্রিজের উভয় পাশেই ঢালু অংশ রয়েছে। সেখানে কোন গতিনিয়ন্ত্রক বা সতর্কীকরণ চিহ্নও নেই। তবে এই স্থানটিতে ঢালু সড়ক হওয়ায় সব যানবাহনই স্বাভাবিকের চেয়ে কম গতিতে চলাচল করে। কিন্তু দূর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি যাচ্ছিল মহাসড়কে চলাচলের স্বাভাবিকের চেয়েও দ্রুতগতিতে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময় ট্রাকটির চালক অনেকটা ঘুমের ঘোরে ছিলেন। হঠাৎ করে ঢালু সড়ক আসায় ঘুমের ঘোরেই ব্রেক করেন তিনি। দ্রুত গতিতে চলা একটি যানবাহন হঠাৎ করে ব্রেক করায় ট্রাকটির উপর নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। আর এতে মহাসড়কের আইল্যান্ডে উঠে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকে থাকা সিমেন্টের বস্তার নিচে চাপা পড়ে যাত্রীরা হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারী পালিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজ (২৮ মার্চ) শনিবার ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের কান্দিলা নামক স্থানে এই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই পাঁচ জন নিহত হন, আহত হন আরও ১১ জন। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। সেখানে আহত আরও ১০ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


টাঙ্গাইল/শাহরিয়ার সিফাত/সাজেদ

     
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : টাঙ্গাইল, ঢাকা বিভাগ