ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

থেমে নেই পল্লী বিদ্যুতের বিল আদায়, সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৯ ১:৫০:০৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৯ ১:৫০:৩৮ পিএম
পাইকগাছা জোনাল অফিসে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের লাইন

করোনা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই খুলনা পল্লী বিদ্যুতের বিল আদায় কার্যক্রম।

জরুরি সেবার নামে যথারীতি অফিস খোলা রেখে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। এমনকি বিল দিতে আসা গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য কোন সার্কেল বা বিত্তও করা হয়নি। ফলে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের বিধানও। এতে করে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে খুলনা পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন পাইকগাছা জোনাল অফিসে সাধারণ দিনের মতই বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করতে দেখা গেছে।

আর বিল গ্রহণের জন্য অফিসের ক্যাশিয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও যথারীতি অফিসে হাজির রয়েছেন। তবে, গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়িয়ে বিল প্রদানের ক্ষেত্রে অফিস কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

এমনকি, গ্রাহকদের দাঁড়ানোর জন্য কোন ধরণের সার্কেল বা বিত্তও এঁকে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি তারা। ফলে, সকাল থেকে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামের পল্লী জনপদের সাধারণ মানুষ বিল দিতে এ অফিসে ভিড় করেন।

সরকার যেখানে সকলকে ঘরে নিরাপদে থাকতে উৎসাহিত করছে, সেখানে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করায় অনেক গ্রাহকই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে, পরে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনা বা হয়রানির শিকারের আশঙ্কায় সাধারণ গ্রাহকরা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

বিদ্যুৎ বিল গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন পল্লী বিদ্যুতের পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম রেজায়েত আলী জানান, পাইকগাছা, কয়রা ও কপিলমুনিতে বিল নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকেও বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে, অফিসে বেশি গ্রাহক বিল দিতে আসছেন না। সর্বোচ্চ ১০, ১৫, ২০ জন করে বিল দিচ্ছেন। তাদের তিন ফুট করে দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। তবে, কোন সার্কেল বা বিত্ত করা হয়নি, প্রয়োজন হলে করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনেই বিদ্যুৎ বিল প্রদান ও গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে, কাউকে বিল দিতে জোর করা হচ্ছে না, লাইন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ খুলনার জিএম প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন জানান, স্বল্প পরিসরে বিল নেয়া হচ্ছে। তবে, বিল বকেয়া থাকলেও এ মুহূর্তে কোন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না- মর্মে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট দূরত্বে সার্কেল বা বিত্ত এঁকে দেয়ার জন্য তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার বিভিন্ন ধরণের কিস্তি বা লোন আদায়ও স্থগিত করেছে। সেখানে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের বিষয়টি কতটুকু যৌক্তিক- সেটি ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সচেতন মহল।

 

খুলনা/নূরুজ্জামান/বুলাকী