Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮ ||  ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

হবিগঞ্জে চাষীদের ক্ষতি পোষাতে সবজি কিনে বিতরণ প্রশাসনের

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৫, ৩ মে ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
হবিগঞ্জে চাষীদের ক্ষতি পোষাতে সবজি কিনে বিতরণ প্রশাসনের

হবিগঞ্জের সবজি আবাদের এলাকা হিসাবে পরিচিতি মাধবপুর উপজেলার কৃষকরা করোনার প্রভাবে চরম বেকায়দায় রয়েছেন। পাইকার না আসায় এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় পানির দামেও বিক্রি হচ্ছে না উৎপাদিত সবজি। আর সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মজুদও করতে পারছেন না চাষীরা।

সবজি চাষীদের এই কষ্টের অবস্থা জানতে পেরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান শনিবার বিকেলে মাধবপুর উপজেলার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক বদু মিয়াসহ ১৫ কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ৯০০ কেজি সবজি কিনেছেন। এসব সবজির মাঝে রয়েছে করলা, টমেটো, শসা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা।

এ সকল সবজি দরিদ্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

তিনি জানান, কৃষকদেরকে সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বেশী পরিমাণ সবজি ক্রয় করা হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, এতে একদিকে কৃষক উপকৃত হবেন। অন্যদিকে ক্রয়কৃত সবজি ইফতার ও ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে দরিদ্র কর্মহীন মানুষরা পাচ্ছেন। আগামী ১ মাস সবজি ক্রয় কার্যক্রম চালু থাকবে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে তা ক্রয় করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও পরিবহন দিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করছেন। পর্যায়ক্রমে হবিগঞ্জের সব উপজেলা থেকেই সবজি ক্রয় করা হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনে কৃষকদেরকে সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যও আহবান জানান।

কৃষকরা জানান, এ বছর সবজির ভালো ফলন হয়েছে। তবে অন্যান্য বছর বাইরে থেকে পাইকার এলেও এবার আসছেন না। সেজন্য চাষিরা স্থানীয় বাজারগুলোতে ১০ টাকা কেজি দরে টমেটো, ১৫ টাকা কেজি দরে সিনাত বেগুন এবং ৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন। আর এতো কম দামে সবজি বিক্রির ফলে শ্রমিক খরচ ও অন্যান্য খরচ তোলা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। অথচ অন্য বছর রমজান মাসে এর কয়েকগুন দাম পাওয়া যেত।

রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক বদু মিয়া জেলা প্রশাককে ধন্যবাদ দিয়ে জানিয়ে বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেও করোনার কারণে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী এলাকার পাইকাররা বাজারে না আসায় সবজি বিক্রি করতে পারছি না। সেজন্য পানির দামে গ্রামের বাজারে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। রমজানে শসার দাম বেশি থাকলেও এবার কেজি প্রতি শশা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা। জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ভাল দাম পেয়ে আমরা আনন্দিত। সবাই যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে।’


হবিগঞ্জ/মোঃ মামুন চৌধুরী/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়