ঢাকা, রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

হবিগঞ্জের বহু স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শচীন্দ্র লাল আর নেই

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২২ ৫:৪৬:১২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২২ ৫:৫৩:৪৭ পিএম

হবিগঞ্জের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপসনালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী ব্যবসায়ী শ্রী শচীন্দ্র লাল সরকার (৮৪) আর নেই।

আজ শুক্রবার ভোরে নিজ বাসায় তিনি পরলোকগমন করেন, বিকেলে তাকে দাহ করা হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও শিক্ষার প্রসার প্রয়োজনীতা চিন্তা করে নিজ অর্থায়নে বহু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সর্বপ্রথম ১৯৮৪ সালে শহরের কালীগাছতলা সংলগ্ন এলাকায় মাতার নাম করনে নীরদামী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর মনোনিবেশ করেন কলেজ প্রতিষ্ঠায়। ১৯৯৪ সালে হবিগঞ্জ শহর থেকে ২.৫০ কিলোমিটার উত্তরে বানিয়াচং উপজেলায় নাগুড়া গ্রামে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে ৮ একর ভূমি ক্রয় করেন। দু-তলা বিশিষ্ট ভবন , সুরমা উদ্যান, বিজয়লক্ষী সরোবর, ছাত্রাবাস, মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

তিনি ১৯৯৮ সালে  ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় সিংহগ্রামে বিজয়লক্ষী হাই স্কুল-কলেজ স্থাপন করেন। ১৯৯২ সালে হবিগঞ্জ রামকৃঞ্চ মিশনে শচীন্দ্র লাল সরকার নামে শিক্ষা বৃত্তি চালু করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সালে শচীন্দ্র কলেজের পাশে শ্রী চৈতন্য সংস্কৃতি মহাবিদ্যালয় স্থাপন করেন তিনি। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জ রামকৃঞ্চ মিশন আশ্রমে দূর্গা মন্দির স্থাপন, ১৯৯৬ সালে শ্রীমঙ্গলের রুস্তমপুর গ্রামে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জিউড় মন্দির স্থাপন। ১৯৯৭ সালে তার সমস্ত সম্পত্তি ধর্মসেবা ও গরিবদের সেবায় দেবোত্তরে দান করেন। এছাড়াও শহরের গার্নিং পার্ক এলাকায় রাধা গোবিন্দ জিউড় মন্দির স্থাপন ও বগলা বাজার এলাকায় নরসিংহ মন্দিরের উন্নয়নমূলক কাজ ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

হবিগঞ্জ জেলা শহরের ঘাটিয়া বাজার এলাকায় মাতুলালয়ে ১৯৩৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন শ্রী শচীন্দ্র লাল সরকার। পিতা স্বর্গীয় চাঁদ সরকার মাতা স্বর্গীয় নিরদাময়ী সরকার। পিতা চাঁদ সরকার পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি ছিলেন।

ছোট বেলা থেকেই তিনি মেধাবী ছিলেন। হিন্দু ধর্মীয় পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার সুযোগ পান। দেশ ভাগের ফলে তার পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যেতে হয় তাকে। পরে আবার দেশে ফিরে আসেন। লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের অভাব অনাটনের কারণে আর হয়ে উঠেনি।সংসারের হাল ধরতে শহরের ঘাটিয়া বাজার এলাকায় সুলভ বস্ত্রালায় (নয়া হাজারী) সাধারণ কর্মচারী হিসেবে চাকরি নেন। দীর্ঘ দিন চাকরির সুবাদে নিজেকে একজন দক্ষ ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলেন।সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পরে নিজেই ঘাটিয়া বাজারে একটি ছোট্ট কাপড়ের দোকান খোলেন। সময়ের প্রেক্ষাপটে নিজেকে সফল ব্যবসায়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।


হবিগঞ্জ/মো. মামুন চৌধুরী/সাজেদ

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : হবিগঞ্জ, সিলেট বিভাগ