ঢাকা, শনিবার, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শিশু-কিশোরদের নির্মমতার শিকার প্রাণীগুলো (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ৮:২১:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-৩০ ৯:৫৯:৩০ এএম

সিলেটের জৈন্তাপুরে শিশু-কিশোরদের নির্মমতার শিকার হলো নয়টি বন্যপ্রাণী। তারা দলবেঁধে গ্রামের কয়েকটি জঙ্গলে গিয়ে নয়টি বন্যপ্রাণীকে পিটিয়ে হত্যা করে।

উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামে শিশু-কিশোররা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ৬টি শেয়াল, ১টি বেজি ও ২টি বাঘডাশা হত্যা করে।

শুক্রবার (২৯ মে) এ ঘটনা ঘটে।

বন বিভাগ বলছে, খবর পেয়েই রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বনবিভাগের কর্মকর্তারাও সেখানে যাবেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানায়, বর্ষা মৌসুমে ওই অঞ্চলের টিলা আর জঙ্গলে শেয়ালসহ কিছু বন্যপ্রাণী আশ্রয় নেয়। পাহাড়ি ঢলের কারণে বাসস্থান হারানো ছাড়াও খাদ্য সংকটে পড়ে বন্যপ্রাণীগুলো। এ কারণে লোকালয়ে আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি বন্যার কারণে টিলায় আশ্রয় নেওয়া শেয়াল কিছু মুরগি খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন নির্মম কাণ্ড ঘটায় এলাকার শিশু-কিশোররা।

স্থানীয় এক কিশোর ফেসবুকেও এ ঘটনা লাইভ করে। মৃত প্রাণীগুলোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় সিলেটের প্রাণী অধিকার ও পরিবেশবাদীদের।

ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ‘দলবেঁধে লাঠি নিয়ে ‘শেয়াল’ ‘শেয়াল’ বলে চিল্লাতে থাকে। রাস্তার পাশে দুটি শেয়াল মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় একজন আরও একটি মৃত শেয়াল ও একজন একটি বাঘডাশ সেখানে নিয়ে এসে জড়ো করে রাখে। একজনকে বলতে শোনা যায়, লাইভে আছি। চলছে শেয়াল মারার কাজ। আপাতত আমরা আরখটা (আরও একটি) জঙ্গল দখল করাত যাইরাম (দখল করতে যাচ্ছি)।  কিছুক্ষণ পর আবারও বলে, আইছি আমরা আরকটা জঙ্গলও; শেয়াল মারার কাজ চলে।’

এসব বন্যপ্রাণীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ সাংবাদিক হোসেন সোহেল লিখেছেন, ‘ওদের আশ্রয়ে আগুন দিয়ে টেনে হিঁচড়ে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন হত্যার ঘটনা আমাকে বিমর্ষ করে। আমি স্তম্ভিত, হতবিহবল হয়ে যাই...!’

তিনি আরও লেখেন, ‘এটা কেমন নিষ্ঠুর নির্মমতা। বন্যপ্রাণী আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তা না হলে পরবর্তীতে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’

এই ঘটনা ‘নৈতিক অবক্ষয় ও আইন লঙ্ঘনের ধৃষ্টতা’ উল্লেখ করে পরিবেশকর্মী  আবদুল হাই আল হাদী বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ যেখানে বন্যপ্রাণীকে সুরক্ষা দেবে, সেখানে এই আইনের প্রয়োগ খুব লঘুভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। এ কারণে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন বন্যপ্রাণী হত্যার খবর শুনি।’ তিনি বন্যপ্রাণী রক্ষায় এ আইনের সঠিক প্রয়োগের দাবি জানান।

সিলেটের উপবন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বন্যপ্রাণী হত্যার খবর জানার পর দ্রুত স্থানীয় বন কর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। শনিবার ফরেস্ট রেঞ্জার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। এরপর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





সিলেট/নোমান/ইভা

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : সিলেট, সিলেট বিভাগ