ঢাকা     রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭ ||  ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ঋণ পরিশোধ করতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের নোটিশ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ৩ জুলাই ২০২০  
ঋণ পরিশোধ করতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের নোটিশ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন সরকার।

এ সময়ের মধ্যে কোনো ঋণ গ্রহিতার কাছ থেকে ঋণের কিস্তি বা বকেয়া এমনকি খেলাপিও আদায় করা যাবে না। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহকদেরকে ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা বা চাপ না দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এমন বিধি নিষেধ থাকলেও তা মানছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালিত ‘একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’।

বিজয়নগর উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে উপজেলার কয়েকজন ঋণ গ্রহিতাদেরকে ঋণ পরিশোধের জন্য খেলাপী উল্লেখ করে হলুদ কাগজে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জুন মাসের ২৪ তারিখে এ চূড়ান্ত নোটিশে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক বিজয়নগর শাখার শাখা ব্যাবস্থাপক রণন প্রতিম ভাওয়াল স্বাক্ষরিত নোটিশ গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো হয়েছে।

নোটিশে গ্রাহকের ঋণ খেলাপী হয়েছে মর্মে নোটিশ প্রাপ্তির পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশ পেয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ‘সরকার যে জায়গায় মহামারি করোনাভাইরাস-এর সময় মানুষকে সাহায্য সহযোগীতা করছে, সেই জায়গায় সরকার কর্তৃক পরিচালিত অফিস থেকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে বেকার সময় পার করছি। পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এরই মধ্যে এমন নোটিশ পেয়ে আমরা চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।’

এ বিষয়ে জানতে বিজয়নগর উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক রণন প্রতীম ভাওয়ালকে মোবাইলে ফোন করা হয়। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে অনেক সাংবাদিকের ফোন ধরেছি। আমার এখানে নেট সমস্যা কথা ক্লিয়ার না। আপনি রোববার অফিস টাইমে দেখা করেন।’

এ কথা বলে ফোন কেটে দেন বিজয়নগর উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক রণন প্রতীম ভাওয়াল।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই কর্মকর্তাকেও এ ব‌্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এদিকে এ বিষয়ে জানতে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ এর জেলা ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেনকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোর রিসিভ করেননি।


মাইনুদ্দীন রুবেল/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়