ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭ ||  ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

লোকসানের শঙ্কায় নওগাঁর গো-খামারিরা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:২৩, ৮ জুলাই ২০২০  
লোকসানের শঙ্কায় নওগাঁর গো-খামারিরা

আসছে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নওগাঁর প্রান্তিক গো-খামারিরা ব‌্যস্ত সময় পার করছেন।

কোরবানিকে কেন্দ্র করে খামারে পালন করা গবাদিপশু ভাল দামে বিক্রির জন‌্য তারা প্রতীক্ষার প্রহর গুণছিলেন।

কিন্তু করোনার কারণে এখনো বাজার জমে ওঠার মতো পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কায় পড়েছেন তারা।ফলে এখানকার প্রান্তিক গো-খামারিরা চরম দু:শ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

খামারিরা বলছেন, একদিকে গো-খাদ্যের দাম চড়া অন্যদিকে হাটে ক্রেতা সংকট। অন‌্য বছর এ সময় খামারে পাইকাররা আসতেন গরুর জন‌্য, কিন্তু এ বছর তেমনটা হচ্ছে না। কোনো পাইকার নাই। এছাড়া, জেলার গরুর হাটগুলোতে নেই বাহিরের ক্রেতা। এ কারণে এসব হাটে বিক্রি হচ্ছেনা বড় গরু। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনতে তালিকা করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হেলাল খাঁন ।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর নওগাঁয় কোরবানির উদ্দেশ্যে প্রায় ৩২ হাজার খামারে ২ লাখ ৭২ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। আসন্ন ঈদে জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব গরু যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তখন আর লোকসান হবে না। 

কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৪৫ লাখ টাকায় ৩০টি গরু কিনে মোটা-তাজা করেছেন সদর উপজেলার চুনাতাপাড়ার খামারি মান্নান সাহানা। এসব গরু বিক্রির আশা করেছিলেন ৯০ লাখ টাকায়। কিন্তু বর্তমান করোনাভাইরাসের কারণে এসব গরু বিক্রি করে আসল টাকা পাবেন কী-না এখন এই দু:শ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। শুধু মান্নান নয়। তার মতো অন্যান্য খামারিদেরও একই চিন্তা। একদিকে গো-খাদ্যের চড়া দাম অন্য দিকে ক্রেতা শূন্য গরুর হাট। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা চান তিনি।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ‌্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছেলিম রেজা ডালিম জানান, সরকার খামারিদের যে ঋণ দিতে যাচ্ছেন তাতে রয়েছে নানা রকমের শর্ত। ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিতে চাইলে জিম্মাদার হিসেবে স্কুলশিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু একজন খামারি স্কুলশিক্ষককে কিভাবে জিম্মাদার করবেন। আর শিক্ষকই বা কেনো জিম্মাদার হবেন। এছাড়া, বড় ঋণ নিতে চাইলে ঋণের দুগুণ সম্পদ সরকারের জিম্মায় দিতে হবে। এবং পরের মাস থেকেই ঋণের কিস্তি দিতে হবে। যা একজন খামারির পক্ষে সম্ভব না। এসব সহনশীল শর্ত না। গো-খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হেলাল খাঁন জানান, কোরবানির গুরু জেলার বাহিরে পাঠাতে কোন প্রকার সমস্যায় পড়বেন না খামারিরা। প্রয়োজনে জেলা প্রণিসম্পদ দপ্তর থেকে খামারিদেরকে সনদ দেয়া হবে। আর করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনতে তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

 

 

নওগাঁ/বুলাকী

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়