ঢাকা     রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭ ||  ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

নীলফামারীতে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ১১ জুলাই ২০২০  
নীলফামারীতে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

উজানের ঢল, সমতলে টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্ট বন‌্যায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১১ জুন) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার (৫২.৬০) ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত শুক্রবার রাত ১২টায় ওই পয়েন্টে তিস্তা বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে বন্যায় উত্তরের নীলফামারী জেলার তিস্তা অববাহিকার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ সকাল ১১টায় ভারতের দো-মহনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৮৫.৯৫) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। ভারতের এই পয়েন্টে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হয়ে এসেছিল। তাতেই বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার সর্বোচ্চ ৩৮ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে। আজ শনিবার ভারতের দো-মহনী পয়েন্টে পানির প্রবাহ গতকালের চেয়ে বেশি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে লাল সংকেট দেয়া হবে। আপাতত হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ (ফ্লাডবাইপাস) এলাকাটি কর্মকর্তারা নজরদারি করছে। তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ এলাকার উজান ও ভাটি এলাকায় বসবাস করা পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে, উজানের ঢলে তিস্তায় চতুর্থ দফায় ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় নতুন করে ৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। চরবেষ্টিত গ্রামের মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ ইউনিয়ন, পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যানগণ জানান, তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদে সরে নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার ২ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুই উপজেলার অসংখ্য ফসলি জমির আমন বীজতলা ও রোপিত আমনের চারা তলিয়ে গেছে। বসতঘরগুলোতে হাটু ও কোমড় সমান পানি বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাছের পুকুর উপচে পড়ায় প্রচুর মাছ ভেসে গেছে।

ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, ‘আমরা প্রতিটি এলাকা মনিটরিং করছি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার চর ও চর গ্রামের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা ও জন প্রতিনিধিরা সর্বক্ষণিক তিস্তায় বন্যা কবলিতদের খোঁজখবর রাখছেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ মজুদ রয়েছে। বন্যা আক্রান্তদের ত্রাণসহ সার্বিক সহায়তার কাজ চলছে।

 

সিথুন/বুলাকী

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়