ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

প্রবাসে ৭০ বাংলাদেশির ২ কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত সেলিম

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ১৩ জুলাই ২০২০  
মালেশিয়াতে কর্মরত প্রতারক সেলিম হোসেন

মালেশিয়াতে কর্মরত প্রতারক সেলিম হোসেন

মালেশিয়ায় ৭০ বাংলাদেশি শ্রমিকের ২ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন সেদেশের একটি কোম্পানির সুপারভাইজার মেহেরপুরের সেলিম। ওই প্রতারক সেদেশেই টাকা পরিশোধের পাঁচ মাসের সময় নিয়ে লাপাত্তা হওয়ায় পর এখন পাওনা টাকা নিয়ে শঙ্কায় আছেন পাওনাদাররা।

মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের সুঁড়িপাড়ার সোহরাব হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন।স্থানীয়ভাবে সেলিমের বাবার সঙ্গে পাওনাদারদের সঙ্গে সালিশে পাওনা পরিশোধের চুক্তি হলেও তাতে ভরসা পাচ্ছেন না কেউ।

মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের রশিদ আলী খাঁর ছেলে সোহরাব খাঁ। সাত বছর আগে তিনি বাবার জমি-জায়গা বিক্রি ও ধার-দেনা করে চাকরি নামের সোনার হরিণ ধরতে মালেশিয়ায় পাড়ি জমান। সোহবার খাঁন এক বছর আগে মালেশিয়ায় ব্রড গ্রোজ মনিটরিং চায়না (বিজিএমসি) কোম্পানিতে চাকরি নেন। ওই কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত মালেশিয়া প্রবাসী আশরাফপুর গ্রামের প্রতারক সেলিম হোসেন। তার অধীনে কাজ করেন আশরাফপুর গ্রামের ১৩ জনসহ মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী ও কুমিল্লা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোট ৭০ জন বাংলাদেশি। ৭০ জনের বেতন বাবদ পাওনা ২ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করে মালেশিয়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রতারক সেলিম হোসেন।

মালেশিয়া থেকে সোহরাব খাঁ আরও জানান, কোম্পানির সুপারভাইজার হওয়ার সুবাদে মহামারি করোনাভাইরাসের লকডাউনে সেলিম হোসেন চলতি বছরের মে মাসের ১১ তারিখে কোম্পানির লেবারদের বেতন বাবদ ৪ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত তুলে নেন। কিন্তু লেবারদের বেতন না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। এর আগেও সে লেবারদের বেতন দেওয়ার নামে একাধিকবার মোটা অংকের রিঙ্গিত তুলে আত্মসাৎ করেছেন। অর্থ আত্মসাতের পর সেলিম হোসেন মালেশিয়ায় পালিয়ে আছেন। গেল ১৫ জুন কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূর থেকে পাওনাদাররা তাকে খুঁজে আনেন। তাদের বেতন পরিশোধের কথা বললে তিনি ১৭ জুন তারিখ পাওনা পরিশোধ করবেন বলে জানায়। ওই দিনও পাওনা পারিশ্রমিক দিতে না পেরে আগামী ৫ মাসের মধ্যে সকলের পাওনা পরিশোধ করবেন বলে জানান সেলিম হোসেন।

মেহেরপুরের আশরাফপুর গ্রামের রশিদ আলী খাঁ জানান, বেতন বাবদ তার ছেলের পাওনা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, একই গ্রামের মৃত আওলাদের ছেলে মো. জামালের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গাংনীর খাসমহল গ্রামের ফকির মন্ডলের ছেলে আসাদুলের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ঝিনাইদহের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শামিনের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, আশরাফপুর গ্রামের ইয়াস নবীর ছেলে বাচ্চুর ২ লাখ টাকা বেতন বাবদ সুপারভাইজার সেলিম হোসেনের কাছে পাওনা রয়েছে। এভাবে এ পর্যন্ত ৪৩ জন মালেশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির দাবি অনুযায়ী পাওনা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা। পাওনা পরিশোধের দাবি তুলে ওই ৪৩ জনের স্বজনরা আশরাফপুর গ্রামের প্রতারক সেলিম হোসেনের বাবা সোহরাব হোসেনের সঙ্গে দেন-দরবার করেন। এ নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে আশরাফপুর গ্রামের কারখানাপাড়ার বটতলায় গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশ সভায় উপস্থিত ছিলেন আমদহ ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলামের পুত্র মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ঝন্টু হালসানা, সাধারণ সম্পাদক জিয়া, সহসম্পাদক ইজারুল গাইন প্রমুখসহ এলাকার গণ‌্যমান্য ব্যক্তিরা। ওই সালিশে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে বাবা সোহরাব হোসেন ছয় মাসের সময় চান এবং তিনশত টাকার দলিলে স্বাক্ষর করেন।

সেলিম হোসেনের অপরাধের কথা স্বীকার করে পিতা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘তার মাত্র ছয় বিঘা জমি আছে। যা বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ থেকে ৩৬ লাখ টাকা পাব। আমি কিভাবে টাকা পরিশোধ করব?’

এ খবরে পরিশ্রমের টাকা না পাওয়ার শঙ্কায় আছি বলে জানান বেশ কয়েকজন পাওনাদারের স্বজনা।

আশরাফপুর গ্রামের বাসিন্দা বিজিবি’র অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক মুক্তিযোদ্ধা কাজি হাবিব জানান, সেলিম হোসেন প্রায় ২২ বছর ধরে প্রবাসী। প্রথমে সে আট বছর সৌদিতে, পরে ১৪ বছর ধরে মালেশিয়া অবস্থান করছে। সে তার মামতো বোন শিবপুর গ্রামের মনিহার বেগমকে বিয়ে করেছে। তিনি জেলার মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি কিনেছেন।

 

 

মহাসিন আলী/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়