ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

ত্বকী হত্যাকাণ্ড: ৭ বছরেও তদন্ত শেষ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২২, ৬ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ত্বকী হত্যাকাণ্ড: ৭ বছরেও তদন্ত শেষ হয়নি

২০১৩ থেকে ২০২০ সাল। পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। অথচ এই দীর্ঘ সময়েও নারায়ণগঞ্জের কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ‌্যাকশ ব‌্যাটালিয় (র‌্যাব)-১১। তবে, সংস্থাটি বলছে, তদন্ত অনেকটাই  এগিয়েছে।  শিগগিরই  অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। অপহরণের দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা  নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। দেশব্যাপী আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে পালিত হয় হরতাল, মানববন্ধন ও সমাবেশসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি।

২০১৪ সালের মার্চে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান জানান, আজমেরী ওসমানের পরিকল্পনায় ও অংশগ্রহণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের খসড়া গণমাধ‌্যমে প্রকাশ করে শিগগিরই  আদালতে দাখিল করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।  কিন্তু ওই এখনো অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।

এ বিষয়ে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ না দিলে এ হত্যার বিচার হবে না। এই বিচার হতে হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রয়োজন রয়েছে।’

সন্ত্রাস নিমূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচীব হালিম আজাদ বলেন, ‘ত্বকীকে কারা, কীভাবে হত্যা করেছে, এটা র‌্যাবের খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর তা সবাই জানে। যতই প্রভাব খাটানো হোক ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করা যাবে না। এ হত্যার বিচার হবেই।’

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহামুদ বলেন, ‘ত্বকী হত্যার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসে মানববন্ধন করছে। আন্দোলন করে হত্যার বিচার তো হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত বিচার দাবি করছি।  

ত্বকী হত্যা মামলার আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, ‘ত্বকী হত্যা মামলার সাত বছরেও চার্জশিট দেওয়া হয়নি। মামলায় নির্ধারিত তারিখে (চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি) আসামি ভ্রমরের স্বীকারোক্তিতে  উল্লিখিত ১১ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করাসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে চার্জশিট দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আদালত।’

আগামী ৯ মার্চ ত্বকী হত্যা মামলার নির্ধারিত তারিখ। ঘটনার পর এ হত্যা মামলায় পুলিশ শওকত সুলতান ভ্রমর লিটনসহ ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে ভ্রমর ও লিটন ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ জনের নাম উল্লেখ করে, কারা কীভাবে, কোথায় ত্বকীকে হত্যা করেছে বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেয়। এরপর জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি ভ্রমর ও লিটনসহ ৫ আসামি জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়। 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর থেকে ত্বকী হত্যার দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদান, চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

 

নারায়ণগঞ্জ/রাকিব/সাইফ/হক

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়