ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

মুক্তিযুদ্ধের অনন্য গবেষক জেবউননেছা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:২৬, ২৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
মুক্তিযুদ্ধের অনন্য গবেষক জেবউননেছা

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেবার কাজ করে সাড়া জাগিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের মেধাবী সন্তান ড. জেবউননেছা।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও নারায়ণগঞ্জের আলোকিত ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার আলহাজ্ব জালালউদ্দিন নলুয়ার বড় সন্তান।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণসহ মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুক্তিযুদ্ধের সমৃদ্ধ ঘটনা ও ইতিহাস সংগ্রহ ও গবেষণার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের বিষয়গুলোও তিনি বেশ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।  জেবউননেছা এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রকাশিতব্য ‘এনসাইক্লোপেডিয়া অব বাংলাদেশ ওয়ার অব লিবারেশন’ এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকথা এন্ট্রিক লেখক হিসেবে নিয়মিত লিখেছেন।

জেবউননেছার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘আলোকিত নারীদের স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ’ নামক গ্রন্থটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।  জেবউননেছা খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের স্মৃতিকথা সম্বলিত ‘সূর্য সন্তানদের ৭১ এর স্মৃতি’ নামক গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৯৫২ এর সত্যিকারের ইতিহাস নিয়ে মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া রচিত ‘বাংলা আমার বাংলা’ নামক একুশভিত্তিক নাটক সম্পাদনা করেন। এ দুটি গ্রন্থ স্বনামধন্য প্রকাশনী ‘অনন্যা প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধু একুশ নির্বাচিত কবিতা’ নামক কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি তরুণ মুক্তিযুদ্ধ গবেষক হিসেবে বিনোদনধারা পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড, বিশেষ সম্মাননা-২০১৪, আমরা কুঁড়ি পদক-২০১৪, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পুরষ্কার-২০১৩ এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ (বাসাপ অ্যাওয়ার্ড)-২০১৩ অর্জন করেন।

তার রচিত গবেষণাগ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ নামক গ্রন্থটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা’ প্রবন্ধ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘অগ্রপথিক’ মার্চ, ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘একাত্তুরের যাত্রী’ নামক সংগঠন থেকে প্রকাশিত ‘একাত্তুরের নারী’ ম্যাগাজিনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নারীদের নিয়ে লেখা ‘তোমাদেরকে জানাই সালাম’ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৯ সনে তার সম্পাদিত প্রথম গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধ: বুদ্ধিজীবীর দৃষ্টিকোণ ও অভিজ্ঞতা’ গ্রন্থের মুখবন্ধের এক পর্যায়ে তিনি লিখেন, ‘পারিবারিকভাবে বাবার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে ভালোবাসতে হয় দেশকে।  কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয় মুক্তিযোদ্ধাকে।  আশি দশকের শেষের দিকে আমার বাবা কবি ও নাট্যকার মু. জালাল উদ্দিন নলুয়া রচিত ‘টাকার পাহাড় চাই’ নাটকের একটি সংলাপ ছিল ‘জন্মদাতা, কর্মদাতা, শিক্ষাদাতার মতোই আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি দেশের মুক্তিদাতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের’। এই সংলাপটি তার মনের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা সৃষ্টি করেছিল।’

জাতীয় গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘টক শো’তে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে আমন্ত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বক্তব্য এবং সেমিনারে লেখা পাঠ করেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে আয়োজিত সেমিনারে ‘মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা’ নামক গবেষণাভিত্তিক লেখা পাঠ করেন। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে।  তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নেটওয়ার্ক শিক্ষক হিসেবে গত ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেবার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ পরিদর্শন করেন। তিনি প্রতি বছর ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অভিযাত্রী আয়োজিত ‘অদম্য পদযাত্রা’য় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা সম্পর্কে সর্ম্পকে জানতে চাইলে ড. জেবউননেছা জানিয়েছেন, ‘পারিবারিকভাবে তার বাবার কাছ থেকে শিখেছেন কীভাবে ভালোবাসতে হয় দেশকে। কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয় মুক্তিযোদ্ধাকে।  ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সত্যিকারের কাহিনি  নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ডকুমেন্টারি ফিল্ম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ‘টর্চার সেল’ মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ প্রকল্পে অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে একনেকের অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের মেধাবী সন্তান ড. জেবউননেছা তার কাজের মাধ্যমে সাড়া দেশে নারায়ণগঞ্জের মুখ উজ্জল করেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা কাজ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয়। জেবউননেছার কাজের জন্য তাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষ  গর্ব করেন।

 

নারায়ণগঞ্জ/রাকিব/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়