ঢাকা     শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭ ||  ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

পটলের জাংলায় ঝুলছে আজিজারের স্বপ্ন

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:০৩, ১০ জুলাই ২০২০  

চলছে বর্ষাকাল, চারিদিকে থৈ থৈ পানি। তারই মাঝে জেগে আছে বেশকিছু উঁচু মাটির ভিটা। এসব ভিটায় আছে পটলের জাংলা বা মাচা। জাংলায় ঝুলছে আজিজার রহমানের স্বপ্ন। এমন চিত্র দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামে।

এ এলাকায় পৌষ মাসে কৃষকরা পটল চাষের জন্য উঁচু জমি নির্বাচন করেন, যেখানে বন‌্যার পানি ওঠে না। গোবর, খৈল, পটাস, ফসফেট, ডিএপি ও ইউরিয়া সার দিয়ে জমি তৈরি করেন। পটলের ডাল লাগানোর পর নিয়মিত পানি সেচ দেওয়া হয়। প্রতিটি গাছ যখন এক হাত থেকে দেড় হাত লম্বা হয়, তখন গাছের গোড়ায় লাঠি পুঁতে তার সঙ্গে গাছ জড়িয়ে দেওয়া হয়। পটলের পুরো খেতে জাংলা তৈরি করা হয়। ১০ দিন পর পর জাংলায় ভিটামিন, জিংক ও কীটনাশক স্প্রে করেন কৃষকরা। দেড় মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফুল আসে। দুই মাসেই পটল তুলতে শুরু করেন কৃষকরা। ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ মাসে ৭ দিন পর পর জাংলা থেকে পটল তুলতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পটলের ফলন কমে যায়। খেতে পানি না জমলে প্রতিটি পটলের জাংলা প্রায় তিন বছর স্থায়ী হয়ে থাকে। এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করতে কৃষকের ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

হরিহরপুর গ্রামের আজিজার রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অনেক আশা করে আমি এই এক বিঘা জমিতে পটল আবাদ করেছি। স্বপ্ন আমার পূরণ হয়েছে। পৌষ মাসে পটলের চাষ শুরু করেছিলাম। ফাল্গুন মাস থেকে পটল তোলা শুরু করেছি। আগে সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ মণ পটল তুলেছি। এখন বর্ষাকালে এক থেকে দেড় মণ পটল তুলছি। বাজারে বর্তমান পটলের দাম ভালো পাচ্ছি। প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে পাইকারের কাছে বিক্রি করছি।’

পটলচাষি সলিমুদ্দিন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমার ১০ শতকের একটি পটলের জাংলা আছে। প্রায় দুই বছর আগে তৈরি করেছিলাম। এখানে বন‌্যার পানি ওঠে না। শীতের মৌসুমে পটল ধরে না। তাছাড়া কম-বেশি প্রায় সময় পটল পাওয়া যায়। গাছের বয়স বেশি হয়ে গেছে, তাই আগের মতো পটল ধরে না। প্রথম বছরে প্রচুর পটল তুলেছি, খাওয়ার পরও অনেক টাকার পটল বিক্রি করেছিলাম।’

বিরামপুর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সোহেল রানা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বর্তমান সব সবজির মধ্যে পটলে দাম অনেকটাই কম। প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা পাইকারি দরে কিনে ২৪ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করছি।’

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্রী নিক্সন চন্দ্র পাল রাইজিংবিডিকে জানান, এবছর উপজেলায় মোট ৪৫ হেক্টর জমিতে পটলের চাষ হয়েছে। বর্ষায় পটলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ভালো ফলন হয়েছে এবং বাজারে ভাল দাম পেয়েছেন পটলচাষিরা। আমরা পটলচাষিদের পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছি।

 

হিলি/মোসলেম/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়