ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

শত কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা মেহেরপুরের খামারিদের

মহাসিন আলী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৭, ১০ জুলাই ২০২০  

ঈদ-উল-আযহায় বিক্রি করে বড় লাভের স্বপ্ন নিয়ে মেহেরপুরের কয়েক হাজার খামারি গরু মোটাতাজা করেছেন। কিন্তু করোনার মধ্যে গরু বিক্রি করতে বেশ চিন্তায় পড়েছেন তারা। কোরবানি উপলক্ষে এ জেলায় প্রস্তুত রয়েছে লক্ষাধিক গরু-ছাগল। তবে গরুর ব‌্যবসায়ীদের কেনা শুরু হয়নি কোরবানির গবাদিপশু। জেলার চাহিদা পূরণ করেও উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির পশু। বর্তমান বাজার মূল্যে গরু-ছাগল বিক্রি করলে জেলার খামারিদের শত কোটি টাকা লোকশানের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসেব মতে, জেলার নিবন্ধনকৃত খামার ও পারিবারিক খামারসহ ৩০ হাজার ৯০৪টি খামারে পালন করা এক লাখ এক হাজার ২০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নেপালী, হরিয়ান ছাড়াও দেশি জাতের গরু প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পালন করছেন খামারিরা।

মেহেরপুর সদর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম নিজের সঞ্চয় ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ছোট একটি খামার করেছিলেন। তার খামারের ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি গরু কোরবানির জন্য উপযুক্ত। তিনি জানান, যদি ৪টি গরুর দাম ২০ লাখ টাকা হয়, তাহলে লাভবান হবে তিনি। তবে গরু কিনতে বর্তমানে কোন ব্যবসায়ী আসছে না। অন্যবছর এই সময় ব্যবসায়ীরা গরু কেনাবেচা শুরু করতেন। এবার কোন ব্যাবসায়ী আসেনি।

মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের গরু পালনকারী মফিজুল ইসলাম মজনু জানান, খাবারের চড়া দাম হওয়ায় পশু পালনে বেশ খরচ হচ্ছে খামারিদের।

একাধিক খামারি জানান, হিসেব করে দেখা গেছে, জেলায় কোরবানির উপযোগী গরু ও মহিষের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৮২টি এবং প্রতিটি গরু ও মহিষের বর্তমান বাজার মূল্যে ২০ হাজার টাকা লোকসান হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে লোকসানের পরিমাণ ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬৩৮ টি। প্রতিটি ছাগল ও ভেড়ায় বাজার মূল্যে লোকসান ৪ হাজার টাকা। এতে খামারিদের লোকসান ২৫ কোটি ৪৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে একশ কোটি ২১ লাখ ৯২ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা মেহেরপুরের খামারিদের। 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের খামারী সুলতান মাহামুদ জানান, তার খামারে ৪৩টি গরু রয়েছে। তার মধ্যে ২৬টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে যে বাজার মূল্য, তাতে প্রতিটি গরুতে ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান হবে।

গাংনীর গরু ব্যবসায়ী আলীমুজ্জামান বলেন, গেল বছর কোরবানির সময় ঢাকার কমলাপুরে ১০ ট্রাক গরু নিয়ে গিয়েছিলাম। কোরবানির মাস দেড়েক আগেই গ্রামে গ্রামে গিয়ে গৃহস্থদের বাড়ি থেকে গরু বায়না করে আসতাম। এবার ঢাকাতে গরু নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা তার নিশ্চয়তা না থাকায় গরু কিনিনি। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া থেকে কয়েক হাজার গরু কিনতাম। এবার কেনা-বেচায় কোন ভরসা না থাকায় গরু কিনছি না। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলায় পালিত পশুর মধ্যে ৫০ ভাগ জেলায় জবাই করা হয়। বাকি অর্ধেক সরাসরি এবং বিভিন্ন হাটের মাধ্যমে ঢাকার কোরবানির পশু হাটে তোলা হয়। বিক্রির জন্য পশুর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অফিসের কয়েকটি টিম। খামারি ও গরু পালনকারীদের উৎসাহ দিতে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে পশুর নায্য মুল্য নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন তারা। তিনি মনে করেন, খামারি ন্যায্য মূল্য পেলে লাভবান হবে এবং আগামী দিনে খামারি সংখ্যা বাড়বে।


মেহেরপুর/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

পাঠকপ্রিয়