ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ভয়ংকর রূপে ফুঁসছে তিস্তা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৪, ১০ জুলাই ২০২০  
ভয়ংকর রূপে ফুঁসছে তিস্তা

উজানের গজলডোবা হতে পানি ছেড়ে দেওয়ার জেরে ভয়ংকর রূপে ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টার পর হতে ১২ ঘণ্টায় নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ৬০) ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অথচ এদিন সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকী কেন্দ্র সূত্র মতে, এর আগে চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সর্ব প্রথম গত ২০ জুন বিপৎসীমার ওপরে ওঠে। যা পরেরদিন ২১ জুন সকালে নেমে যায়। এর ছয় দিনের মাথায় ২৬ জুন তিস্তা নদীর পানি দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে ২৮ জুন সকালে নেমে যায়।

তৃতীয় দফায় ৪ জুলাই সকালে তিস্তার পানি ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ওইদিন সন্ধ্যায় তা নেমে গিয়েছিল। এবার ১০ জুলাই আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে উজানের পানি বেড়ে গেলে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপরে চলে আসে।

তিন ঘণ্টা পর উজানের ঢল আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় আরও বৃদ্ধি পায় ১৩ সেন্টিমিটার। ফলে ১২ ঘণ্টায় পানি ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর (৫২ দশমিক ৮৮) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে উজানের ঢল ধেয়ে আসা অব্যহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এদিকে, ওপারে দোমহনী হতে বাংলাদেশের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভারত কর্তৃপক্ষ তিস্তা নদীর অরক্ষিত এলাকায় লাল সংকেত জারি করেছে।

উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উজানে ভয়াবহতার কারণে ভারত লাল সংকেত জারি করেছে। অপর দিকে বাংলাদেশ অংশে হলুদ সংকেত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে লাল সংকেত দেওয়া হবে। তিস্তা ব্যারাজের কর্মকর্তারা নজরদারীতে মাঠে রয়েছেন।

এদিকে উজানের ঢলে তিস্তায় চতুর্থ দফায় ভয়াবহ বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় নতুন করে পাঁচ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। চরবেষ্টিত গ্রামের মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৬ ইউনিয়ন, পূবছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, তিস্তায় ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃস্টি করছে। ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গরু ছাগল, বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে সরে গেছে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, পরিস্থিতি ভাল না। উজানের ঢল ভয়ংকরভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এবার ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খগাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, দুপুরের পর থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব‌্যাহত রয়েছে। এতে মানুষজনকে সরিয়ে নিতে কষ্ট পেতে হচ্ছে। ডিমলা উপজেলায় তিস্তা এলাকায় সরকারীভাবে ছয়টি নৌকাসহ অসংখ্য নৌকা বন্যা কবলিত মানুষজনকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, ‘আমরা সর্তক রয়েছি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার চর ও চর গ্রামের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।’


সিথুন/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়