ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

‘জলঢুপি’র রাজত্ব ‘হানিকুইনে’র দখলে

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৩৭, ১১ জুলাই ২০২০  
‘জলঢুপি’র রাজত্ব ‘হানিকুইনে’র দখলে

আবওহাওয়া অনূকুলে থাকায় মৌলভীবাজারে এবার ‘হানিকুইন’ আনারসের ভালো ফলন হয়েছে।

বৃহত্তর সিলেটের নামকরা আনারস ‘জলঢুপি’। একসময় মৌলভীবাজার জেলায় এই আনারসের চাষ বেশি হতো। সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামের নামেই আনারসের নামকরণ হয়। কিন্তু এখন জলঢুপির চাষ কমে গেছে। তার জায়গা দখল করেছে হানিকুইন।

স্থানীয়রা জানায়, জলঢুপি আনারস আকারে ছোট ও গোলাকার। খুবই মিষ্টি। পরিপক্ব হলে আনারসের রং লালচে হয়। অন্যদিকে হানিকুইন আনারসও জলঢুপির মতো। তবে আকারে কিছুটা বড় ও লম্বাকৃতির। এ আনারসের চোখ তীক্ষ্ণ হয়। দুটিরই স্বাদ অনেকটা কাছাকাছি। তবে হানিকুইনের ফলন ভালো। দোআশ ও বেলে দোআশ মাটিতে হানিকুইনের ফলন ভালো হয়। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চারা লাগানো হয়। আর জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত আনারস তোলা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় ১২০১ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া, শ্রীমঙ্গলে ৪০৯, কুলাউড়ায় ৫৫, রাজনগরে ৪০, বড়লেখায় ৩২, জুড়ীতে ৮৮ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়। এ বছর জেলায় আনারসের উৎপাদন হয়েছে মোট ২০ হাজার ৪১৭ মেট্টিক টন। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি কমলগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ১০৬ মেট্টিক টন।

শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকায় আনারস চাষি মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘আমি দুই একর জায়গায় আনারসের বাগান করেছি। চারা আছে প্রায় ত্রিশ হাজার। বাগানে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আনারস বিক্রি করেছি চার লাখ টাকার মতো।’

তিনি বলেন, ‘আমি বেশিরভাগ আনারস আড়তে বিক্রি করি। এবার ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পিস বিক্রি করেছি। আর বড়গুলো ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করেছি। আমার বাগানে হানিকুইন জাতের আনারসই বেশি।’

নাছির মিয়া নামে আরেক চাষি বলেন, ‘আমি সাত একর জায়গায় আনারস চাষ করেছি। বানরে আমার বেশকিছু আনারস খেয়ে ফেলেছে। তারপরও দেড় দু’লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছি। আগে আমার বাগানে জলঢুপি আনারস বেশি ছিলো। এখন হানিকুইন জাতটাই বেশি। হানিকুইনের স্বাদ ভালো। দামও ভালো।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুর বারী বলেন, ‘জেলায় গতবারের চেয়ে ভালো ফলন হয়েছে আনারসের। হানিকুইন, জয়ান্ট কিউ, ক্যালেন্ডার, জলঢুপি আনারসের চাষ হয়েছে। তারমধ্যে জেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে হানিকুইন আনারস।’

** হিমাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে আনারস

 

 

মৌলভীবাজার/ইভা  

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়