ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

তিস্তায় রেড অ‌্যালার্ট: নিরাপদ স্থানে যাচ্ছে মানুষ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৯, ১২ জুলাই ২০২০  

উজান থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ঢলের পানি তিস্তা নদীকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। আজ রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি আরো দ্বিগুণ বাড়ার আশঙ্কা করছে নীলফামারীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকিকরণ কেন্দ্র। এতে তিস্তা নদীতে রেড অ‌্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এদিকে ভয়াবহ ঢলের হাত হতে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র নিয়ে তিস্তা অববাহিকার মানুষজন নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নীলফামারীর ডালিয়ার  নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। লাল সংকেত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ (ফ্লাডবাইপাস) এলাকাটি কর্মকর্তারা নজরদারী করছে। তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ এলাকার উজান ও ভাটি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে।

সুত্র বলছে, আজ রবিবার দুপুর ১টায় ভারতের তিস্তা নদীর দো-মহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার (৮৫.৯৫ মিটার) ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে। পাশাপাশি সেখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারতের এই পয়েন্টে গতকাল শনিবার বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তার পানি ধেয়ে আসায় রাত ১২টায় বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার (৫২.৬০ মিটার) সর্ব্বোচ ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর ভারতে পানি কমে এলে আজ রোববার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা ৩টায় ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ও হু-হু করে উজানের ঢল ধেয়ে আসছে।

এদিকে গত তিন দিনের তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলায় প্রায় আট হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছচাঁপানীর ইউপি চেয়ারম্যান গন জানায়, তিস্তায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃস্টি করছে। ডিমলার কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ি,পূর্ব খড়িবাড়ি, পশ্চিমখড়িবাড়ি, তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গরু-ছাগল, বাক্স-পোটরা নিয়ে নিরাপদে আশ্রয় যাচ্ছে।  

অপরদিকে জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি,গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার দুই হাজার পরিবার বন্যাকালিত হয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দুই উপজেলার অসংখ্য ফসলী জমির আমন বীজতলা, রোপিত আমনের রোপা তলিয়ে গেছে। বসতঘরগুলোতে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের খামারগুলোর পুকুরগুলো উপচে পড়ায় প্রচুর মাছ ভেসে গেছে। ওই সকল এলাকায় খবর নিয়ে দেখা গেছে পরিবারগুলো বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে সরে যাচ্ছে। এ ছাড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বন্যার পানি বইছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, উপজেলার সকল কর্মকর্তাগনকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকভাবে টিম গঠন করে প্রতিটি ইউনিয়নে মনিটরিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, তিস্তা নদীর পানি ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা নৌকা নিয়ে বন্যা কবলিতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। জরুরিভাবে তাদের মধ্যে শুকনো খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।


ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/সাজেদ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়