ঢাকা     রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৭ ||  ০৯ সফর ১৪৪২

পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সৈকত

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১২, ৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সৈকত

করোনা মহামারি থাকা সত্ত্বেও ঈদের পরপরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি সৈকতে বিদেশি পর্যটকের আনাগোনাও ছিলো।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটকের উপস্থিতিতে কুয়াকাটা সৈকতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও করোনা সংক্রমণ রোধে কাজ করছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ। 

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় চার মাস লকডাউন করে দেওয়া হয় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সেইসাথে বন্ধ করে দেওয়া হয় হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত ১ জুলাই আনুষ্টানিকভাবে খুলে দেওয়া হয় পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

দীর্ঘ সময় মানুষের কোলহল আর দূষণ না থাকায় প্রকৃতি তার অপার মহিমায় ঢেলে সাজিয়েছে দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত এলাকা। আর এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদ উপলক্ষে সৈকতে ভীড় জমিয়েছেন হাজারো পর্যটক। পাশাপাশি এসব সৌন্দর্য উপভোগ করতে সোমালিয়া থেকে ছুটে এসেছেন পাঁচ পর্যটক।

সৈকতে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের দিন পর্যটকের তেমন আনাগোনা না থাকলেও রোববার (২ আগস্ট) থেকে সৈকত এলাকায় ভিড় বাড়ে পর্যটকের। এসব পর্যটক সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে নেচে-গেয়ে, সমুদ্রে গোসল, হৈ হুল্লোড় আর সৈকতে খেলাধূলায় মেতেছেন। 

সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোভোলা দৃশ্য অবলোকনসহ সৈকতে বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেক পর্যটক। কুয়াকাটার লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইনদের তাঁতপল্লী, আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসহ দর্শনীয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা দেখা গেছে। রাতে সৈকতে অনেক তরুণ তরুণী জোস্নার আলোয় গল্প আড্ডায় মেতেছেন। 

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক এমদাদুল হক বলেন, ‘করোনাকালীন দীর্ঘ সময় ঘরে বসেই কাটাতে হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুয়াকাটায় আসা। এখানকার মনোরম দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করেছে।’

 

অপর এক পর্যটক মহিবুল্লাহ মানিক বলেন, ‘এখানকার মানুষ অতিথী পরায়ন। আমি কুয়াকাটার বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলো ঘুরেছি। আম্ফানের প্রভাবে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া বেশ কিছু গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো সৈকত এলাকা থেকে সরানো দরকার।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ‌্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস পর্যটনমুখী ব্যবসা বন্ধ থাকার পর এই প্রথম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক সৈকতে এসেছে। অনেক পর্যটকই অগ্রিম হোটেল বুকিং দিয়েছেন। এভাবে পর্যটকর আসা অব্যাহত থাকলে আমাদের মন্দা কেটে যাবে। এছাড়া কুয়াকাটার প্রত্যকটি হোটেল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। তাই এখানে করোনার ভয় কম।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের প্রথম দিন তেমন কোনো পর্যটক ছিল না। রোববার থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে এবং করোনা সংক্রমণ রোধে ট্যুরিস্ট পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

ইমরান/সনি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়