ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

খুলনায় অতিরিক্ত মদ পানে ১ জনের মৃত‌্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫২, ৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
খুলনায় অতিরিক্ত মদ পানে ১ জনের মৃত‌্যু

অতিরিক্ত মদ পানে খুলনায় অর্ঘ নামে এক তরুণের (১৮) মুত্যু হয়েছে। 

অর্ঘ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ও এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলাম এবং একই ডিসিপ্লিনের প্রফেসর মাহতালাত আহমেদের ছোট ছেলে।

একই ঘটনায় ওই দম্পত্তির বড় ছেলে ও খুবি’র সিএসই ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সান (২২) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় এয়ার অ‌্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। 

এইচএসসি পরীক্ষার্থী অর্ঘ সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। আছর বাদ নগরীর মৌলভীপাড়ায় তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। 

তবে, এ বিষয়ে পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। 

অতিরিক্ত মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’র ডা. সালমান জানান, অর্ঘ অতিরিক্ত মদ পান করেছিল বলে নমুনা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন, একদিন আগেই মদ পানে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। বমিও করেছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও খাচ্ছিল দুই ভাই। কিন্তু অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। 

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সান ও তার ছোট ভাই অর্ঘকে অসুস্থ অবস্থায় গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর তাদেরকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। ডা. সালমানের তত্ত্বাবধানে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সোয়া ৪টার দিকে অর্ঘ মারা যায়। এরপর সানকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপসহকারী কমিশনার (সদর) ও মিডিয়া উইং প্রধান কানাই লাল সরকার বলেন, ‘অতিরিক্ত মদ পানে মৃত্যুর বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি’। 

খুলনা সদর খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার থানায় এক আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের এক ছেলে রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চাওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে লাশ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।   

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রোববার রাতে খাওয়ার কিছু সময় পর শিক্ষক দম্পতির দুই ছেলে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ছোট ছেলে অর্ঘের অবস্থা খারাপ হলে তাকে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর রাত সোয়া ৪টায় অর্ঘ মৃত্যুবরণ করে। 

জ্যেষ্ঠ সন্তান খুবির সিএসই ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানকেও গাজী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
 

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়