ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

পুরনো রূপে কক্সবাজার সৈকত, স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীন

সুজাউদ্দিন রুবেল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০০, ৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
পুরনো রূপে কক্সবাজার সৈকত, স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীন

করোনা পরিস্থিতির দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুরনো রূপে ফিরছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। 

ঈদের ছুটিতে সৈকতে ভিড় করতে শুরু করেছে পর্যটকসহ স্থানীয় দর্শনার্থীরা। ঘুরতে এসে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব‌্যাপারে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। তবে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রচারণাসহ মাইকিং করতে দেখা গেছে ট্যুরিস্ট পুলিশকে। 

করোনার কারণে চার মাস ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। যার কারণে পর্যটক শূন্য ছিল সৈকত। কিন্তু ঈদের ছুটিতে সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় আনা হয়েছে শিথিলতা। তাই পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে চিরচেনা সৈকত। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ভিড় করতে শুরু করেছেন পর্যটকসহ দর্শনার্থীরা। দীর্ঘসময় পর ঘরবন্দি মানুষগুলো সৈকত দেখতে পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

স্থানীয় দর্শনার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে সৈকত প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সৈকতে প্রবেশে শিথিলতার আসার পর ঘুরতে এলাম। এখন সৈকতে এসে অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কারণ, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত প্রত্যেক ভ্রমণপিসাসুর জন্য পছন্দের একটি স্থান।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ঘরবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে সৈকত দেখতে এলাম। এখন সৈকতে এসে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছি।’

আরেক পর্যটক সুলতানা রহমান বলেন, ‘এখন সৈকতে জন সমাগম দেখে মনে হচ্ছে সেই পুরানো চিরচেনা সৈকতকে ফিরে পেয়েছি। শুধু বাড়তি যুক্ত হয়েছে কিছু মানুষের মুখে মাস্ক। অনেকে গ্লাভস পরে রয়েছে। কিছু মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে, আবার অনেকেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না। যা আমাদের সবার জন্যই ক্ষতির কারণ।’

এদিকে সৈকতে প্রবেশে শিথিলতা এলেও এখনু হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও বার্মিজ দোকানগুলো খুলে দেওয়া হয়নি। তবে দর্শনার্থীদের আগমনে দারুণ খুশি সৈকতের ফটোগ্রাফার ও বিচবাইক চালকরা।

বিচ বাইক চালক রশিদ বলেন, ‘অনেক দিন পর প্রাণ ফিরে পেয়েছি। সৈকতে মানুষজন আসছে। তাদেরকে বাইকে চড়িয়ে কিছু অর্থ উপার্জন হচ্ছে।’

ফটোগ্রাফার সোহেল বলেন, ‘দর্শনার্থীদের ছবি তুলতে ক্যামেরা হাতে সৈকতে নেমেছি অনেক দিন পর। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাঁচশ টাকা আয়ও করেছি। এখন খুবই খুশি লাগছে।’

করোনার কারণে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রচারণা ও মাইকিং অব‌্যাহত রয়েছে। তবে অনেকেই এ ব‌্যাপারে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক শাকের আহমেদ বলেন, ‘শিথিলতার কারণে পর্যটকসহ স্থানীয় দর্শনার্থীরা ছুটে আসছে সৈকতে। কিন্তু সৈকতের প্রবেশের পয়েন্ট থেকে শুরু করে পুরো সৈকতের ছয়টি পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ করোনা পরিস্থিতির জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাইকিং করছে। এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেকে মানছেন, অনেকেই মানছেন না। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আগামী ৫ আগস্ট সৈকতের দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খুলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল কাজ করছে।’

এদিকে পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে অর্ধশতাধিক লাইফ গার্ড কর্মী দায়িত্বে থাকলেও গত তিন দিন ধরে তাদেরকে দেখা যায়নি। তাই বর্ষা মৌসুমে সাগর উত্তাল থাকায় যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়