ঢাকা     শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৭ ||  ৩০ মহরম ১৪৪২

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর ঢল

আব্দুল্লাহ আল নোমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:২৩, ৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর ঢল

ঈদের দিন থেকেই সিলেটে তীব্র গরম পড়েছে। এই গরমে প্রশান্তির খোঁজ পেতে তাই সবাই ছুটছেন প্রকৃতির কাছে। ঈদের পরপরই তাই সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে।

কেউ যাচ্ছেন পিয়াইন তীরের জাফলং, আবার কেউ যাচ্ছেন নীল জলের লালাখাল। আবার অনেকেই ছুটছেন সফেদ পাথরের বিছানার ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট কিংবা বিছানাকান্দিতেও। কেউ আবার শহরতলীর চা-বাগান কিংবা বাইশটিলার হাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

করোনা সংকটের কারণে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্ধ রয়েছেন সিলেটের সবক’টি পর্যটন স্পট। তবে দীর্ঘ চারমাস পর পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে এসব স্থানে ফিরে পেয়েছে প্রাণ। যদিও সরকারিভাবে এখনও এসব পর্যটন এলাকা বন্ধ রয়েছে। তবে পর্যটকেরা সরকারের বিধি উপেক্ষা করেই ছুটছেন প্রকৃতির কাছে। আর দীর্ঘদিন পর প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশও করছেন তারা। কড়াকড়ি শিথিলতার কারণে সিলেট জেলার বাসিন্দা ছাড়াও জেলা বাইরে থেকেও আসছেন পর্যটকরা। 

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এ নিয়ে অনেকটা উদাসিনও পর্যটকরা। জেলার বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলেও এ ব্যাপারে জেলার অভ্যন্তরের এবং স্থানীয় দর্শনার্থীদের কোনো আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল ঘুরে দেখা গেছে সেখানে পর্যটকের খুবই ভিড়। 

সেখানে কথা হয় একদল তরুণের সাথে। যারা পাশের উপজেলা কানাইঘাটের চতুল মাদানীনগরের বাসিন্দা। তারা বলছিলেন, মোটরসাইকেলে করে তারা লালাখাল বেড়াতে এসেছেন। ঈদের পুনর্মিলন উপলক্ষে গ্রামের তরুণরা সবাই এখানে এসেছেন।

ওই তরুণদের একজন ফাহিম আহমদ বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই গ্রামের ছোটভাইদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। তবে এখানে তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। এর আগের দুদিনে এই স্থানে আরও বেশি ভিড় ছিল বলে শুনলাম।’

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্টেও পর্যটকের ঢল নেমেছে। বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না হলেও সেখানে ভিড় করছেন পর্যটকরা। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঘুরতে আসা আহনাফ বলছিলেন, ‘দীর্ঘ চার মাস ধরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা বন্ধুরা মিলে এবার সিলেটে ঘুরতে এসেছি। তবে হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকায় এক দিনেই দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে তারা ফেরত যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মালিহা করিম বলেন, ‘পাথর-পানি-পাহাড়ের মিতালি দেখতে জাফলং এসেছি। বাসায় থাকতে থাকতে অনেক ক্লান্তি নেমে এসেছিল। তাই একটু প্রশান্তি খুঁজে নিতে বেড়াতে এলাম। খুব ভালো লাগছে।’

সিলেটের অপর পর্যটন আকর্ষণ কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ জিরোপয়েন্টের ‘সাদাপাথর’ এলাকায়ও ভিড় বেড়েছে দর্শনার্থীদের। 
স্থানীয় সংবাদকর্মী আবিদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের পরদিন থেকেই সাদাপাথরে ভিড় করছেন পর্যটকরা। এই স্থানটি চারমাস পর পর্যটকের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে। এর আকর্ষণ আরও বেড়েছে।’

শুধু দূরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো নয়, দর্শনার্থীরা অনেকেই ঘুরতে যাচ্ছেন সিলেট শহরের আশপাশের চা-বাগান এলাকায়ও। এছাড়া বিমানবন্দরের পাশের বাইশটিলায় হাওর আর টিলার সৌন্দর্য দেখতে সেখানেও ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি নগরের গোয়াবাড়ি এলাকায় নবনির্মিত ওয়াকওয়েতেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।

গত ১৮ মার্চের পর থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকায় পর্যটক গমনে নিরুসাহিৎত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।

সিলেট/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়