ঢাকা     শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৭ ||  ০৮ সফর ১৪৪২

শালবন বিহারে উৎপাদিত শাক-সবজি বিতরণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
শালবন বিহারে উৎপাদিত শাক-সবজি বিতরণ

কুমিল্লায় শালবন বিহারে শাক-সবজি চাষের চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, এবার সেসব তেভাগা নীতিতে বিতরণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন সবার।

শনিবার তাদের উৎপাদিত এসব শাক-সবজি আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন কেন্দ্র শালবন বিহার। দীর্ঘ করোনাকালে এই ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রটি সরকারের নির্দেশে বন্ধ থাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগমও বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এ সময়টিতেও অলস বসে ছিলেন না এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা শালবন বিহারসহ এই এলাকার দর্শনীয় স্থানগুলো পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে দর্শনার্থীদের উপযোগী করে রাখেন। পাশাপাশি এখানকার আঞ্চলিক পরিচালকের নির্দেশে শালবন বিহার সংলগ্ন গাড়ি পার্কিং মাঠের ফাঁকা জায়গাসহ আশপাশের পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে শুরু করেন মৌসুমী শাক-সবজির আবাদ। এখানকার পাহাড়ি লাল মাটি উর্ভর ও চাষাবাদের জন্যে বেশ উপযোগী। ফলে শাক-সবজি আবাদ করে ভালো ফলনও পান তারা।  বিগত শীত মৌসুম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারা লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লাল শাকসহ বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি উৎপাদন করেন, যা অধীদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও বিতরণ করা হয়।

৮ আগস্ট শনিবার দুপুরে তেভাগা নীতিতে উৎপাদিত শাক-সবজি উপকারভোগী পাশ্ববর্তী বৌদ্ধ পল্লী এলাকার ২০ জন, স্থানীয় ৩০ জন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দৈনিক শ্রমিকের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিতরণ করা হয়।

বিতরণ করেন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান। এ সময় শাক-সবজি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. হাফিজুর রহমান, বুকিং সহকারী মঞ্জুর হোসেন, লক্ষণ দাস, আবদুল্লাহ আল মামুন।

এ ব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা মোতাবেক করোনা পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় শালবন বিহারের গাড়ি পার্কিং মাঠ সংলগ্ন অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত খালি জায়গায় শাক-সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। করোনার এই সংকটের সময়ে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখার স্বার্থে নিজ দায়িত্বে পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমে এসব উৎপাদন করা হয়, যা তেভাগা নীতিতে চাষকৃত এসব শাক-সবজী বিতরণ হলো। একটি অংশ স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ, একটি অংশ চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ এবং অবশিষ্ট অংশ বিক্রি করে উৎপাদন ব্যয় নির্বাহ করা হয়। 

ইমরুল/সাজেদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়