ঢাকা     রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৫ ১৪২৭ ||  ০২ সফর ১৪৪২

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত মানিকগঞ্জের কৃষকেরা

হাসান ফয়জী, মানিকগঞ্জ: || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০১, ১০ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত মানিকগঞ্জের কৃষকেরা

বাড়ির উঠানে ধানের বীজতলা পরিচর্যা করছেন গোবিন্দ কৃষ্ণদাসের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী দাসী

গোবিন্দ কৃষ্ণদাস অধিকারী পেশায় কৃষক। ২০ বছর ধরে তিনি কৃষি কাজ করে আসছেন। বন্যার পানিতে তার সব সবজি ও ফসলি খেত তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর চাষের জন্য এখন তিনি রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াঢ়ী গ্রামের উত্তর মাঠে দেখা যায়, গোবিন্দ বাড়ির উঠানে বিনা-৭ জাতের ধানের নতুন একটি বীজতলা তৈরি করছেন। কথা বলার সময় যেন নেই। সন্ধ্যার আগেই কাজ শেষ করবেন।  

তিনি জানান, আগাম ঢেরস, লাল শাক, পুই শাক চাষ করেছিলেন। ফসলও বিক্রি করার উপযোগী হয়েছিল। সেই সময়ে বন্যার পানিতে সব তলিয়ে যায়। তার ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, সিম, লাউ গাছের চারাও পানিতে পচে গেছে।

তিনি এখন তার অধিকাংশ জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করবেন। এর জন্য কিছু চারা তৈরি করেছেন। সেই চারা বড় হয়ে গেছে। এখন জমি থেকে পানি পুরোপুরি নেমে গেলে রোপণ শুরু করবেন।

তিনি বিকেলে ৮ কেজি ধান বুনে নতুন বীজতলা তৈরি করছেন। এর পাশাপাশি নতুন করে সবজি লাগানোর জন্য চারা তৈরি করবেন।  

কৃষক গোবিন্দ কৃষ্ণদাস বলেন, যেভাবে বন্যার পানি নামা শুরু হয়েছে, তাতে আগামী সপ্তাহ থেকে শীতকালীন সবজি চাষ করার জন্য চারা তৈরির কাজ শুরু করতে পারবেন। ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, দেশি লাউ, বরবটি, টমেটোর চারা তৈরি করবেন তিনি।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৭ উপজেলায় ৩১ হাজার ৫৭৭ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করলেও এখনও পুরোপুরি নামেনি।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাজাহান আলী বিশ্বাস বলেন, বন্যায় মানিকগঞ্জে কৃষিখাতে ১০০ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যে সকল কৃষকের বাড়ি পানি ওঠেনি, সেখানে রোপা আমন ধানের বীজতলা ও সবজির চারা উৎপাদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

ঢাকা/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়