ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

মানববন্ধনে লাঠিচার্জ-সহকর্মীকে লাঞ্ছিত: বামনার ওসি প্রত্যাহার

বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ১১ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
মানববন্ধনে লাঠিচার্জ-সহকর্মীকে লাঞ্ছিত: বামনার ওসি প্রত্যাহার

এএসআই নজরুল ইসলামকে চড় দেওয়ার আগ মুহূর্ত, ইনসেটে বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদার

পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা গ্রেপ্তার সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সহকর্মীকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বরগুনা জেলা পুলিশের তিন সদস‌্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধন চলাকালে লাঠিচার্জ ও সহকর্মীকে জনসমক্ষে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ অবস্থায় ঘটনার দিন গত শনিবার (৮ আগস্ট) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ওসি ইলিয়াস তালুকদারকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। 

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তার ব্যাপারে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এর আগে গতকাল সোমবার একই থানার এএসআই নজরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। 

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহার সাথে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে গত শনিবার দুপুর ১২টায় বরগুনার বামনায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানবন্ধন চলাকালীন বামনা থানা পুলিশের একটি দল প্রথমে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ব্যানার-পোস্টার ছিনিয়ে নেয়। 

এরপর বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস মানববন্ধনে থাকা শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ শুরু করে ছত্রভঙ্গ করে দেন। পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। এক পর্যায়ে ওসি ইলিয়াস লাঠিচার্জ না করায় একই থানার এসএসআই নজরুল ইসলামকে চড় মারেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে মেজর (অব.) সিনহা ও সিফাত টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে যাচ্ছিলেন। বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে। গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) জামিনে মুক্তি পান সিফাত।

রুদ্র রোহান/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়