ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

কুষ্টিয়ায় কৃষককে পেটানোর দেড় মাস পর হাসপাতালে মৃত‌্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৬, ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
কুষ্টিয়ায় কৃষককে পেটানোর দেড় মাস পর হাসপাতালে মৃত‌্যু

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জানারুল ইসলাম (৩২) নামের এক কৃষককের পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত‌্যুর পর পুলিশ নিহতের বাড়ি গেলেও এ ধরনের কোন ঘটনার কথা জানে না বলে দাবি করেছে।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার সময় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জানারুল মারা যান।
নিহত কৃষক জানারুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিন পিয়াদার ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসলাম হোসেন জানান, গত ২৪ জুন ছাতারপাড়া এলাকার বটতলা চায়ের দোকানে বসে ছিলো জানারুল ইসলাম। এসময় স্থানীয় নওয়াব, আসমত, হামেদ, নজরুল, সাইফুল, আজগরসহ বেশ কয়েকজন এসে রড, কাঠের বাটাম দিয়ে জানারুলকে পিটিয়ে আহত করে। তারপর প্রাণভয়ে জানারুল দৌড়ে পালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু তাকে আবারও ধরে মারধর করে।

নিহতের বড় ভাই জিয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমার ভাই জানারুলকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে ওরা মেরে ফেলেছে। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সে মারা গেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

নিহতের পিতা জসিম উদ্দিন পিয়াদা জানান, ‘আমার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে নওয়াবসহ আরও কজন। মামলার ভয়ে সে বাড়িতে থাকতে পারতো না। তাকে দিনে দুপুরে একা পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

এদিকে সকালে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহত জানারুল ইসলামের বাড়িতে গেলেও নিহতের খবর জানেন না বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ‘এ ধরনের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। এ ব্যপারে থানায় কোন অভিযোগ আসেনি।

প্রসঙ্গত, মাত্র ১ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকার দুই (গাইন ও পিয়াদা) গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত ১১ জুন দুপুরে দুপক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আহত হন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাইন গ্রুপের নওয়ার আলী ও  পিয়াদা গ্রুপের কৃষক তায়েজ আলী। এ ঘটনায় নওয়াব আলী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ১৫ জনের নামে মামলা করেন দৌলতপুর থানায়। এরপর গত ২১ জুন পুলিশ মামলাটির তদন্তে গিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়ি তল্লাশি করে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে তার জব্দ তালিকা প্রস্তুতসহ অবৈধ অস্ত্র আইনে একই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পুলিশ। এর পর থেকে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত হামলা, লুট, প্রতিপক্ষের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

কাঞ্চন কুমার/সাজেদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়