ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

করোনা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ফেসবুকে রোগীর স্ট্যাটাস 

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২২, ১৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
করোনা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ফেসবুকে রোগীর স্ট্যাটাস 

খুলনা করোনা ডেডিকেডেট হাসপাতালের চিকিৎসার অব্যবস্থাপনা, ওষুধের সরবরাহ না থাকা, চিকিৎসক সংকট এবং সর্বপরি নোংরা পরিবেশ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এক রোগী। এ বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর।

লুৎফুন্নাহার পলাশী নামের ওই রোগী ও তার বৃদ্ধা মা করোনা আক্রান্ত হয়ে ছয়দিন ধরে এ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি নগরীর সিমেট্টি রোড এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাঈদ আলীর কন্যা। 

এদিকে, হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তার স্ট্যাটাস ইতোমধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।

করোনা রোগীর পলাশী’র স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো-
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ :

‘খুলনা কোভিড- ১৯, করোনার কারখানা খুলনাতে আছি আমি ও আমার মা করোনা পজেটিভ নিয়ে। আমার মায়ের অক্সিজেন মাত্রা এত কম যে বাধ্য হয়ে এসেছি এ কারখানায়...আজ পাঁচদিন এই হাসপাতালে, যেটি খুলনা নূরুননগর ডায়াবেটিক হাসপাতালে কোভিড- ১৯ হাসপাতাল চালু করা হয়েছে....সারা হাসপাতালে একজন ডাক্তার, ৪ জন নার্স, দু’জন ওয়ার্ডবয়, আর একজন নার্স আইসিইউতে, এরা কিভাবে এত রুগীদের সেবা দেবে?

তিনি আরও লিখিছেন, ‘একটা মাস্ক পরে যেখানে আমাদের মেজাজ হয়ে যায় খিটখিটে, সেখানে পিপিই পরে ১২ ঘণ্টা দুই শিফটে ডিউটি করে কি করে সেবিকাদের মেজাজ ঠিক থাকে।’

এবার আসি ওষুধে...
‘মেরোপেন, নিনাভীর-১০০ ও কার্ডিনেক্স-৪০ এই ওষুধগুলো আমাকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এক দিনের ওষুধ পড়েছে ১৩ হাজারের বেশি টাকা। আর সরকারিভাবে দেওয়া হচ্ছে প্যারাসিটামলসহ কয়েকটি ওষুধ, সেইগুলাও তুলে ধরলাম।’

তার স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাকে দেখেই বুঝতে পারছেন কতটা যুদ্ধের মধ্যে আমি আছি.... তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সাধারণ জনগণ কিভাবে এতো দামের ওষুধ দিয়ে করোনার সাথে যুদ্ধ করবে।’

এদিকে ফেকবুকে দেয়া পলাশী’র স্ট্যাটাসে সাংস্কৃতিক সংগঠক এনামুল হক মন্তব্য করেন, ‘ভয়াবহ অবস্থা!!!! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে কারা নষ্ট করতে চায়?! যত দ্রুত সম্ভব এসবের সুরাহা হওয়া প্রয়োজন..’।

গোলাম আলী আবেদ বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে সম্ভব্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আগামী দিনে এখানে আপনাকে- আমাকেও যেতে হতে পারে।’

আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘কোনো লাভ নেই আন্টি, ওপর আল্লাহকে ডাকো দেখবে তিনি মঙ্গল করবেন।’

অ্যাডভোকেট টিউলিপ রহমান প্রশ্ন করেন, অসহ্য! এইভাবে একটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চলে? কোথায় যাবেন? কার কাছে অভিযোগ দিবেন? কে শোনে কার কথা ?

এম এ সবুরের মন্তব্য, ‘কাউকে বলে কিছু হবেনা। আল্লাহকে ডাকুন, তিনি নিশ্চয়ই ডাক শুনবেন এবং সুস্থ্য করে দিবেন। আল্লাহ ভরসা।’

জি.এম মনি বলেন, ‘দুঃখজনক! সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি কিভাবে দেখবেন?’

পিজুস সরকার এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আনোয়ারুল কবির খোকন মন্তব্য করেন, ‘এখন তো মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’
চন্দ্রা দত্ত চন্দ্রা বলেন, ‘তোমার কথা পড়ে কষ্ট পেলাম। নোংরা দেখে তো মনে হচ্ছে রুগির দম বন্ধ হবে- রোগে না ঘৃণায়।’ 
ফয়সাল আহমেদ জাবেদও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সি রেজা সেকেন্দার রাইজিংবিডিকে জানান, করোনা চিকিৎসার ওষুধের মূল্য অতিরিক্ত। সবার পক্ষে এসব ওষুধ কেনা সম্ভব নয়। আবার সরকারিভাবে সবসময় সরবরাহও থাকে না। যে কারণে গত মাসে ওয়েল ফেয়ার (দরিদ্র) ফান্ড থেকে ৬৬জন রোগীকে ওষুধ কিনে দেয়া হয়। ওষুধের মূল্য কমানোর দাবি জানান তিনি। 

হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট ও নোংরা পরিবেশের বিষয়ে তিনি জানান, জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এছাড়া রোগীরাই হাসপাতালের বাথরুম ও বেসিন ব্যবহার করেন। তারাই নোংরা করেন, ময়লা ফেলেন। তবে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকারীদেরও অবহেলার বিষয়ে স্বীকার করেন তিনি। 

খুলনা/নূরুজ্জামান/বুলাকী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়