RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৬ ১৪২৭ ||  ১৩ সফর ১৪৪২

১৩ দিনেও বিক্রি হয়নি কোরবানির চামড়া, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

হাসান ফয়জী, মানিকগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৭, ১৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
১৩ দিনেও বিক্রি হয়নি কোরবানির চামড়া, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

কোরবানির ঈদ শেষ হওয়ার ১২ দিন পরও অধিকাংশ চামড়া বিক্রি হয়নি।  যে কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন মানিকগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, এবার ৫০-৬০ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে।  ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এখনো ৪০ থেকে ৪৫ হাজার পিস গরুর চামড়া বিক্রি হয়নি।

জেলার সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের পাঞ্জনখাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদেরই একজন দুলাল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ৮০০ চামড়া এখনো বিক্রি করতে পারিনি।  চামড়া সংগ্রহের ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি না করতে পারলে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়।  না হলে নষ্ট হয়ে যায়।  আজ ঈদের ১২ দিন পার হলেও বিক্রি হয়নি।

সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী ইউনিয়নের ঋষিপাড়ার কেতু চন্দ্র দাস বলেন, আমরা ৩ জন মিলে ১৮০টি চামড়া কিনেছি।  কোনো ক্রেতা পাচ্ছি না।  প্রতি রাতে পালাক্রমে পাহারা দিতে হচ্ছে।

বরাইদ গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী রাজ্জাক বলেন, ২০০ পিস গরুর চামড়া কিনেছি।  আমরা কাচা চামড়া থেকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।  কোনো ব্যাপারী এসে ১০০ টাকাও দাম বলছেন না।  চামড়া বিক্রি না করতে পারলে লোকসানের মুখে পড়ে যাব।

চামড়া ব্যবসায়ী হারান চন্দ্র মনিদাস বলেন, মানিকগঞ্জের ৭ উপজেলায় কমপক্ষে শতাধিক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আছেন। আমরা প্রতি বছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার চামড়া কিনি।  ১২ আগস্ট পর্যন্ত ২০ হাজার চামড়া বিক্রি হয়েছে।  এর মধ্যে ঈদের দিন আর পরের দিনই কাচা চামড়া বিক্রি হয়েছে। তাও লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে।

হারান চন্দ্র মনিদাস আরও বলেন, আমি নিজেই এ বছর ১০০টি চামড়া সংরক্ষণ করেছি।  কি করবো বলেন, কাচা চামড়া কিনছি ২০০-৩০০ টাকায়। এখন দাম বলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়।  তবে আরও কিছুদিন গেলে চামড়া বিক্রি করতে পারব বলে আশা করি।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল ইসলাম টুকু বলেন, এ বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় ৪৬ হাজার গরু পালন করা হয়েছে।  এর মধ্যে অনেক গরু ঢাকার বিভিন্ন হাটে বিক্রি হয়েছে। আবার জেলার বাইরে থেকে অনেক গরু কিনেও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কোরবানি হয়েছে।

হাসান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়