ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৭ ||  ০৬ সফর ১৪৪২

কাজ শেষ হয়নি, আগেই দেবে গেছে মহাসড়কের সুরক্ষা বাঁধ

জাহিদুল হক চন্দন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ১৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
কাজ শেষ হয়নি, আগেই দেবে গেছে মহাসড়কের সুরক্ষা বাঁধ

মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ ২০১৭ সালের ১ জুলাই শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি, এরই মধ‌্যে এ মহাসড়কের সুরক্ষা বাঁধে ফাটল ধরেছে। বন্যার পানির স্রোতে সুরক্ষা বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ।

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ জানায়, ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণে ২৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি গুচ্ছে (প্যাকেজ) সড়কটির প্রশস্তের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ১ জুলাই সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করা হলেও এর আগে সড়কটির দুপাশে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় চার হাজার গাছ কাটা হয়। ইতিমধ্যে সড়কটির হেমায়েতপুর থেকে বেউথা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় কাজ শেষ হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট)  সরেজমিনে দেখা যায়, এ মহাসড়কটির দক্ষিণ পাশে সরু খালে সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ (গাইড ওয়াল) নির্মাণ করা হয়েছে। সিঙ্গাইর উপজেলার বাইমাইল থেকে ভূমদক্ষিণ এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের সুরক্ষা বাঁধ দেবে গেছে। সড়কের উত্তরপাশের কয়েকটি স্থানেও মাটি সরে গিয়ে মুল সড়ক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে মুল সড়ক ও সুরক্ষা বাঁধের মাঝে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ফাটলের মাঝে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে আটকাতে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। এ ছাড়া সিঙ্গাইর বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে সুরক্ষা বাঁধ রক্ষায় বালুবোঝাই জিওব্যাগ ফেলার জন্য কাজ চলছে।

এদিকে শনিবার (৮ আগস্ট) স্থানীয় সংসদ সদস‌্য মমতাজ বেগম এবং মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাউসুল হাসান মারুফ এ মহাসড়কের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় মমতাজ বেগম মহাসড়কটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী গাউসুল হাসান মারুফ বলেন, খালে বন্যার পানি প্রবেশ করায় স্রোতের কারণে সুরক্ষা বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। ফলে বাঁধ দেবে গিয়ে কয়েকটি স্থানে সড়ক ও সুরক্ষা বাঁধের মাঝেখানে ফাঁকার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব ফাঁকা স্থানে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে, যেন বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে আর দেবে না যায়। নির্মাণ কাজে কোন ত্রুটি বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ও সওজের কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল না। কাজ শেষ হওয়ার পরও তিন বছর পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো মহাসড়কটি মেরামত ও সংস্কার করার শর্ত ও নির্দেশনা রয়েছে। বন্যার পানি শুকিয়ে গেলে সুরক্ষা বাঁধটি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহনে জটিলতা এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্মাণ কাজের গতি কমে আসে। ফলে এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সুরক্ষা বাঁধ (গাইড ওয়াল) দেবে মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে করে মূল সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সময় ব্লকগুলো যথাযথভাবে বসানো হয়নি। 

মানিকগঞ্জ/সাজেদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়