RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৭ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাগেরহাটে ১৬০ কি.মি. সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, বাড়ছে দুর্ভোগ

আলী আকবর টুটুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:৫৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:১৯, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
বাগেরহাটে ১৬০ কি.মি. সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, বাড়ছে দুর্ভোগ

ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কিছু অংশ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট জেলার ১৬০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সড়ক পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের। কর্তৃপক্ষ বলছে শিগগিরই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ও আম্ফানে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৯২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আম্ফানে ৫১ দশমিক ১২ কিলোমিটার এবং জোয়ারের পানিতে ৪১ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। 

এসব সড়কের মধ্যে পাকা, ইটের সোলিং ও কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এতে প্রায় ৭০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ‌্যে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন প্রকল্পগুলো অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। 

বাগেরহাটের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জি, এম, মুজিবর রহমান এসব তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়ক মেরামতের জন্য সম্ভাব্য ব‌্যায় ধরে সড়ক ভবনে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন। 

প্রস্তাবনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী দুটি ধাপে মেরামত করার কথা বলা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদী ধাপে মেরামতের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি ৮৭ লাখ টাকা। দীর্ঘ মেয়াদী ধাপে মেরামতের জন্য ব্যয় হবে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও জোয়ারের পানিতে জেলার মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাট পৌরসভার প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগেরহাট পৌরসভার ৪ কিলোমিটার, মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৩ কিলোমিটার এবং মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট ও মোংলা পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে কাজ শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। 

মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখনও কাজ শুরু হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মোরেলেগঞ্জ পৌরসভার মেয়র অ‌্যাডভোকেট এসএম মনিরুল হক তালুকদার। 

এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, পৌরসভা ছাড়া বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়কে প্রতিনিয়ত ‍দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষের। ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ। দ্রুত এসব সড়ক সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের আকবর হোসেন বলেন, ‘সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় গাছ উপড়ে পড়ে ফতেপুর থেকে ফুলতলা সড়কটির বিভিন্ন জায়গা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু আম্ফানের পরে কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও এখনও সড়কের সংস্কার হয়নি। আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হয়।’

মোরেলগঞ্জ পৌরসভার মবিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে আমাদের পৌরসভার বেশ কিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি জোয়ারের পানিতেও ছোট-বড় অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে আমাদের চলাচলে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পৌরসভার এসব সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

মোরেলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এসএম মনিরুল হক তালুকদার বলেন, ‘পানগুছি নদীর তীরে মোরেলগঞ্জ পৌরসভার অবস্থান হওয়ায় ঝড়-জলচ্ছ্বাসে আমরাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়ি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং জোয়ারের পানিতে আমার পৌরসভার কাঁচা, সোলিং, পাকা ও কংক্রিটের সড়ক মিলে প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।’

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও জোয়ারের পানিতে এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, পৌরসভার বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাগেরহাট জেলা পরিষদের কোনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী জি, এম, মুজিবর রহমান বলেন, ‘‘এলজিইডির বেশিরভাগ সড়কই উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলজিইডির সড়ই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

বাগেরহাট জেলায় আমাদের ৬ হাজার ৭০৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও জোয়ারের পানিতে ৯২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুতই এসব সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।’’

সড়ক বিভাগ, বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পরিমাণ ও মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় ঠিক করে একটি প্রস্তাবনা সড়ক ভবনে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কাজ শুরু করতে পারব। তবে যেসব সড়ক খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল- সেসব সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করেছি।’

বাগেরহাট/সাজেদ/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়