RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৬ ১৪২৭ ||  ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভেলার বীজতলায় কম খরচে বেশি লাভ  

সাইফুল্লাহ হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:১১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ভেলার বীজতলায় কম খরচে বেশি লাভ  

ভেলার বীজতলায় খরচ কম লাভ বেশি

প্রথমে কয়েকটি কলাগাছ একসঙ্গে বেঁধে তৈরি করা হয় ভেলা। ওই ভেলার ওপর কঁচুরিপানা সাজিয়ে তার ওপর দুই থেকে তিন ইঞ্চি পরিমাণ মাটি দিলেই বীজতলা তৈরি হয়ে যায়। মৌলভীবাজারের বেশ কয়েকটি উপজেলায় এই ভেলায় আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলা নিচু অঞ্চলে হওয়ায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। এ থেকে রক্ষা পেতে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করছেন তারা। 

কৃষকরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে খরচও কম। এক একটি ভেলা অন্তত ১০ মিটার হলে ভালো। নদীতে তৈরী করা হলে ভেলাটি যেন স্রোতে ভেসে না যায়, এজন্য তা চারদিক দিয়ে খুঁটি দিয়ে সেটির সঙ্গে বেঁধে রাখতে হয়। 

মৌলভীবাজার কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, ভাসমান এই বীজতলা তৈরি করে শুরুতেই সফলতা পাওয়া গেছে। এবার জেলায় ১৬০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। এরমধ্যেই সদরে ২৪, শ্রীমঙ্গলে ২৪, কমলগঞ্জে ২০, রাজনগরে ২৪, কুলাউড়ায় ২৪, বড়লেখায় ২৪, জুড়ীতে ২০টি ভাসমান বীজতলা রয়েছে। আমন মৌসুমের বি আর ২২ জাতটি ভাসমান বীজতলায় রোপণ করা হয়। এর বাইরে কমিউনিটি বীজতলা রয়েছে রাজনগর, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলায়। কমিউনিটি হচ্ছে একজন চাষিকে ১ বিঘা সমপরিমাণ বীজতলা দেওয়া হয়। আর ১৬০টির মধ্যে ৪০ জন কৃষককে চারটি করে বেড দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বুদ্ধিমন্তপুর গ্রামের কৃষক মিনাকত মিয়া জানান, বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই তার বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত। এভাবে অনেক কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে ঠিক সময়ে জমিতে চারা রোপণ করতে পারতেন না তারা। সেইসঙ্গে একই বীজের জন্য দুইবার বীজতলা তৈরিতে খরচও বেশি পড়ে যেত। কিন্তু এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে আটটি ভেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করে বেশ লাভবান হয়েছেন তিনি। 

একই গ্রামের কৃষক রাজু মিয়া বলেন, ‘ভেলায় ভাসমান বীজতলা করতে গিয়ে আমার মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকা খরচ হয়েছে। যেখানে জমিতে এই বীজতলা তৈরি করতে ৩ হাজার টাকার বেশি খরচ হতো।’ চারা তোলার পর বীজতলা তৈরি করা ওই ভেলায় তিনি শাক সবজির চাষ করবেন বলেও জানান।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী রাইজিংবিডিকে জানান, প্রতি বছর বন্যা আর অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজারে বেশিরভাগ কৃষক বীজের জন্য সঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে পারেন না। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবার ভাসমান বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগের সফলতা পাওয়া গেছে। 
 

মৌলভীবাজার/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়