RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৫ ১৪২৭ ||  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে থেমে গেছে আগাম সবজি চাষ

এনাম আহমেদ, বগুড়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:২২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে থেমে গেছে আগাম সবজি চাষ

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে জেলার কৃষকেরা পিছিয়ে পড়ছেন। বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় খেত বীজ বপনের অনুযোপযোগী হয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরো বাড়তে পারে।

নদীর পানি বেড়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় চতুর্থ দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ওই সব এলাকায় বাড়িঘরে পানি প্রবেশ না করলেও চরাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এদিকে, জেলার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে কৃষকরা চাইলেও খুব সহসাই চাষ শুরু করতে পারছে না।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, গাবতলী, শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘির নিচু জমিতে চাষ করা ১ হাজার ৮৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৪৫ হেক্টর জমির মাশকালাই, আগাম চাষ করা ৩২ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।  

কৃষি বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, এবার জেলায় ১২ হাজার ৮১৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখনও পর্যন্ত আগাম চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে ৩২ হেক্টর জমির সবজি।

অনেক কৃষক লাভের আশায় আগাম জাতের ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, পালং শাক চাষ করে থাকেন। এবারও সেই প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছিলেন তারা। তবে বৃষ্টির পানির কারণে তারা থেমে গেছে। শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ থেকে শুরু হয়ে নভেম্বরের শেষভাগ পর্যন্ত থাকে। পানি নেমে গেলে তারা জমিতে আবাদ করতে পারবেন। তবে ফসল আসতে দেরি হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের কৃষক ফজলুল বারী জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে বেগুন লাগিয়েছিলেন। বন্যার পানিতে তার খেত তলিয়ে গেছে। ফসলের কতটা ক্ষতি হবে বুঝতে পারছেন না তিনি।

গাবতলী উপজেলার সোন্ধাবাড়ী গ্রামের কৃষক হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে তার ফসলি জমিতে পানি আটকে গেছে। এ কারণে তারা শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।

বগুড়ার সদর উপজেলার শেখের কোলা গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, আগাম জাতের ফুলকপি চাষের জন্য দুই বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছেন তিনি। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাতে তার জমির অর্ধেকের বেশি চারা নষ্ট হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, পানি যেটুকু বেড়েছে এটা বৃষ্টির কারণেই। তবে উজান থেকে পানি নামবে। সেই সময় জেলায় পানি আরও বাড়বে। তবে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।  

বগুড়ার সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহে বগুড়ায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আগামী দু-একদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন জানান, জেলার পূর্বাঞ্চলে কয়েক দফা বন্যার কারণে রোপা আমন চাষে বিলম্ব হয়েছে। আবার গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিপাতে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত কৃষকরা জমিতে নামতে পারছেন না। 

ঢাকা/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়