RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৬ বছর পর ফিরে এলেন ‘নিহত’ মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০০:৫২, ২ অক্টোবর ২০২০
৬ বছর পর ফিরে এলেন ‘নিহত’ মামুন

মামুন

কথিত হত‌্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর এ সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় আদালতে হাজির হলেন ‘নিহত’ মামুন। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘মামুন হত‌্যা মামলা’য় সশরীরে মামুন আদালতে হাজির হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল‌্য তৈরি হয়।

এসময় আদালতে উপস্থিত থাকা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস‌্যরা অভিযোগ করেন- মামুন জীবিত, অথচ তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিনা দোষে তাদের ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে মারধর করা হয় এবং ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আদালতে পাঠানো হয়। তবে তারা কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তার পরেও এ মামলায় চার জন এক মাস করে এবং দুজন এক বছর করে জেল খাটেন।

উল্লেখ‌্য, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক মামুনকে অপহরণের অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৯মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন তার বাবা আবুল কালাম। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১০মে মামুনকে অপহরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমানকে। তিনি তাসলিমা, রকমত, রফিক, সাগর, সাত্তার ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদেন করেন। 

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, খালাতো বোন তাসলিমা ২০১৪ সালের ১০ মে মামুনকে ডেকে নেন। পরে বিষাক্ত শরবত পান করিয়ে হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয় মামুনকে।

এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। তিনি ২০১৯ সালের ১৮ডিসেম্বর ওই ছয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।  

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘‘একটা মিথ্যা মামলায় ছয় জন নির্দোষ মানুষ জেল খেটেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেন। কিসের ভিত্তিতে এই চার্জশিট দিলেন তিনি?

‘আজ আদালতে গিয়ে দেখি ‘নিহত’ মামুন হাজির। আদালত তাকে বাদির আইনজীবীর জিম্মায় দিয়েছেন। এই হয়রানীর জন্য আমি রাষ্ট্রপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা করার জন্য বাদির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. শেখ ফরিদ বলেন, ‘‘আমার মক্কেল কাউকে আসামি করে মামলা করেননি। একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি হিসেবে ওই ছয় জনের নাম উল্লেখ করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এরই মধ্যে ‘নিহত’ মামুন ফিরে আসেন। আদালত তাকে আমার জিম্মায় দিয়েছেন।” 

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, পুলিশ মামুনকে মৃত দেখায়নি। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, যদি কারও গাফিলতি থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাকিব/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়