RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ২০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১১:৪৬, ২০ অক্টোবর ২০২০
চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ

১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে সব ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে নৌযান শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় কোনো লাইটার জাহাজ পণ্য খালাস করছে না। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর বহিঃনোঙ্গরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং নগরীর সদরঘাটসহ বিভিন্ন নৌঘাটে সব ধরনের পণ্য খালাস বা ওঠা-নামা বন্ধ।

চট্টগ্রাম জেলা নৌশ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি নবী আলম রাইজিংবিডিকে জানান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেছে। দিনের পর দিন আশ্বাস দিয়েও কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণ না করায় শ্রমিকরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরসহ বিভিন্ন নৌঘাটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে এই শ্রমিক নেতা বলেন, আমাদের দেয়ালে পিট ঠেকে গেছে, আমরা বাধ্য হয়েই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। 

বিকেলেই চট্টগ্রামে শ্রমিকরা ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ করবে বলে জানান।

গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম অধিদপ্তরের সামনে নৌশ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন থেকে ১১ দাবিতে  ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালিকরা তাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন সোমবার (১৯ অক্টোবর)। বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় এ ধর্মঘট শুরু করেন নৌ শ্রমিকরা।

১১ দফা দাবিগুলো হলো
১. ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান।

২. ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্যভাতা প্রদান।

৩. সব নৌযান শ্রমিকের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ।

৪. এনডোর্স, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ।

৫. কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

৬. প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান।

৭. নদীর নাব্য রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন।

৮. মাস্টার-চালক পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও নবায়ন, বেআইনি নৌচলাচল বন্ধ করা।

৯. নৌপরিবহন অধিদপ্তরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং

১০. নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

একই দাবিতে গত বছরের নভেম্বরেও আন্দোলন করেছিল শ্রমিকরা। আশ্বাস পেয়ে তখন আন্দোলন থামালেও দাবি আর পূরণ হয়নি বলে শ্রমিকরা জানান।

রেজাউল/এসএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়