RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭ ||  ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

খানা-খন্দে ভরা জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়ক

আবু কাওছার আহমেদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৬, ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৩:০৪, ২৩ অক্টোবর ২০২০
খানা-খন্দে ভরা জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়ক

খানা-খন্দে ভরে গেছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়কটি। বন‌্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে মেরামতও হয়নি। দুর্ভোগ মেনে নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব‌্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ‌্যে সড়কে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গত বন্যায় সড়কে পানি উঠে দুই স্থানে ভেঙে গেছে। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া থেকে কান্দাপাড়া, নান্দুরিয়া, গড়াসিন, গইজাবাড়ি হয়ে ছিলিমপুর পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কটির দুইস্থানে ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা ইট বসিয়ে চলাচলের উপযোগী করে। তবে সেটি স্থায়ী কিছু না হওয়ায় পথচারীদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট করতে হয়। রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা যাওয়ায় সময় নষ্ট হয় ও কষ্টের শিকার হতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়কের বেশিরভাগ অংশে পিচের কার্পেটিং উঠে গেছে। মাটি বেরিয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে গর্তের। বৃষ্টির পানি জমে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। সামান‌্য অসাবধানতায় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

স্থানীয় এলাকাবাসী আমির মিয়া বলেন, ‘সড়কটি দেড় বছর আগে কোনো রকম সংস্কার করা হয়। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। আবার চলাচল না করেও উপায় নেই।’
সিএনজি চালক মো. তোফাজ্জল বলেন, ‘প্রচুর ঝাঁকি লাগায় যাত্রীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে চান না। এছাড়া গন্তব্যে পৌঁছাতেও দ্বিগুণ সময় লাগে। অন্য দিকে সড়কে গর্ত থাকায় কোনো রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে রোগীর খুব কষ্ট হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার দাবি করছি।’

ট্রাক চালক মো. আজাদ বলেন, ‘এই সড়কে খালি ট্রাক নিতে তেমন বেগ পোহাতে হয় না। তবে লোড গাড়ি এই ভাঙা সড়কে নিতে খুব সমস‌্যা। চলাচলের সময় ট্রাকের চাকা গর্তে বসে যাওয়া বা ট্রাক উল্টে যাওয়ার ভয় রয়েছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বারেক মিয়া বলেন, ‘সড়কটি আনুমানিক দেড় দুই বছর আগে রিপেয়ারিং করা হয়েছিলো। বছর পার না হতেই সড়কটিতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বন্যায় সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে ভেঙে গেছে।’

আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘মাত্র দেড় বছরের মধ্যে সড়কের পাঁচ কিলোমিটার খানা-খন্দে ভরে গেছে। মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে অন্য ঠিকাদার কাজ করে। কাজটি নিম্নমানের হয়েছিলো। সড়ক সংস্কার ব্যয় ও কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি করেছিল তা এলজিইডি অফিস থেকে বলতে পারবে। সড়কটি পুনর্নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। আশা করি দ্রুতই কাজ শুরু হবে।’

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, ‘সড়কটি চলাচলের অনুপযুক্ত। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে সড়কের কাজ হয়েছিলো। তাই সড়ক মেরামতের পূর্বের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। জানতে পেরেছি, সড়কটি মেরামতের জন‌্য আবার টেন্ডার হয়েছে। শিগগিরই হয়তো কাজ শুরু হবে।’

দেলদুয়ার এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। ওই সড়কটি বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই।’ তিনি এই প্রতিবেদককে উপসহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে  যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী তোরাপ আলী বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে সাইডে আছি। আমার কাছে ওই সড়কের তেমন কোনো তথ্য নেই। আপনি হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এদিকে হিসাব রক্ষক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ওই সড়কের কাজ সর্বশেষ কত দিন আগে হয়েছে, বরাদ্দ কত ছিল ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনটি ছিল তা বলতে পারব না। কাগজপত্র দেখে বলতে গেলেও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। গোডাউনে অনেক কাগজপত্র জমা আছে। সেখান থেকে খুঁজে বের করা খুব কষ্টকর। অতো সময় আমার নেই।’

টাঙ্গাইল/সনি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়