RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

লালমনিরহাট-বুড়ীমারী সড়কে বেহাল দশা 

ফারুক আলম  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৯, ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০৯:২৫, ২৩ অক্টোবর ২০২০
লালমনিরহাট-বুড়ীমারী সড়কে বেহাল দশা 

লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়ক দিয়ে ভারতে পণ‌্য আমাদানি-রপ্তানি করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় স্থানীয় লোকজন, দূরপাল্লার বাসের যাত্রী ও বন্দরের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

নিম্নমানের সংস্কার কাজ, বৃষ্টির পানি জমে থাকা ও অতিরিক্ত পণ‌্যবাহী ট্রাক চলাচল করায় মহাসড়কটির সহস্রাধিক স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের ১৮০ কিলোমিটার রাস্তা আছে। যার মধ্যে ১২০ কিলোমিটার হাইওয়ে। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে বড়খাতা মোড় পর্যন্ত ২২ কিলোমিটর সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। এর মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ঘুন্টি, খানপাড়া, পৌর শহরের বাইপাস, মির্জারকোট, বাউরা বাজার, জোড়া পুকুর, ফরামানিকের বাড়ি ও বড়খাতা মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও খারাপ।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কের বেহাল দশার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দরে আসতে চান না। এটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’

রাকিব সরকার নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘এই সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে জোড়াতালি দিয়েই চলছে। কয়েকদিন পর পর এই সড়কের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। সড়কটি পুনঃনির্মাণসহ প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি।’

করিম উদ্দিন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে সব সময় ভারী যানবাহন চলে। ১০ থেকে ২২ চাকার গাড়ি চলে। অনেকদিন থেকেই শুনছি রাস্তাটি ফোর লেন হবে। ফোর লেন হলে হয়তো ভারীযান চলাচলের উপযোগী হবে।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ‘এবার বৃষ্টিতে এই সড়কের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া, এই সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় ক্ষতিটা বেশি হয়। পাটগ্রাম, আঙ্গোরপোতা, দহগ্রামে ক্ষতিটা বেশি হয়েছে। দুটি কালভার্ট ভেঙেছে। সেগুলো আমরা ইট, বালুর বস্তা, বাঁশ দিয়ে আপাতত রক্ষা করেছি। এই উপকরণগুলো রেডি থাকে। যেখানে যখন সমস্যা হচ্ছে, সেখানেই আমরা কাজ করছি। তবে আমরা আগামী বর্ষা পর্যন্ত কাভার করতে পারব না। প্রধান সমস্যা হচ্ছে পোর্ট কানেকটিং রোড। এ জন্য টেন্ডার করা আছে। আগামী বর্ষা মোকাবিলার জন্য আমরা দুটি টেন্ডার আহ্বান করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এদিকে, লালমনিরহাট এলজিইডির সড়কগুলো বন্যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৪টি টেন্ডার  আহ্বান করে এলজিইডি। লটারির মাধ্যমে এগুলো বণ্টন করা হয়। যার মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলায় ৪টি, হাতিবান্ধা উপজেলায় ৯টি, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৮টি, আদিতমারী উপজেলায় ১৩টি ও লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ১০টি করে মোট ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৫২ হাজার ৬৮০ টাকার  রাস্তার টেন্ডার সম্পন্ন হয়। যার কাজ কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ আলী খান বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। গতবারও আমরা প্রতিবেদন পাঠিয়েছি, যা আলোর মুখ দেখেনি।’ 

হাতিবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন বলেন, ‘ইট, খোয়া দিয়ে রাস্তা ঠিক করা হচ্ছে। বুড়িমারী-লালমনিরহাট সড়ক রোডসের নির্বাহী প্রকৌশলী ১৮৫০ মিটার রাস্তা আরসিসি ঢালাই করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এলজিইডির রাস্তাগুলো কিছুটা সহনীয়। কিন্তু লালমনিরহাট-বুড়ীমারী সড়কের যে অবস্থা তা তো বলার মতো নয়। এই যে তারা মহাসড়কে ইট, খোয়া দিয়ে রাস্তা ঠিক করছে, তাতে তো সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।’

লালমনিরহাট/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়