RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

রাস্তায় গর্ত: ১২ বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ

বেলাল রিজভী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৪, ২৩ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:৫৩, ২৩ অক্টোবর ২০২০
রাস্তায় গর্ত: ১২ বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ

দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় বাস চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মাদারীপুরের খাগদী-ধুরাইল-শিবচর আঞ্চলিক সড়কটি। সড়কে খানা-খন্দ ও গর্তের কারণে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এই রুটের বাস চলাচল।

সড়কটি দিয়ে ১৫ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের যাতায়াত। এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ মাহিন্দ্র, ইজিবাইক, অটোভ্যান ও টেম্পুসহ অন্যান্য যানবাহন দিয়ে চলাচল করে। সড়কের এই বেহাল দশায় রোগীদের পড়তে হয় আরও বিপাকে। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় মাদারীপুর সদর উপজেলার খাগদী-ধুরাইল-শিবচর সড়কটি প্রায় ১২ বছর আগ থেকেই যোগাযোগের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে মেরামতের কাজ করা হলেও তাতে বাস চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খাগদী-ধুরাইল-শিবচর পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার সড়কের অবস্থাই খারাপ। কয়েক মাস আগে এই সড়কের মাদারীপুরের ধুরাইল থেকে সম্ভুক ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়। তবে আগের অংশ হাউসদি বাজার থেকে মিঠাপুর- চরমুগরিয়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

ওই অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানা-খন্দের। এই অংশের পিচ ঢালাই উঠে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের ওপর পানি জমে। মাদারীপুর জেলা শহর ও উপজেলায় যাতায়াতের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয় ওই এলাকার মানুষজনকে।

অটোরিক্সা চালক শাহ আলম মাদবর জানান, এ রুটে গাড়ি চালালে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভেঙে যায়। গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাই। ট্রাক চালক সাহেব আলী ফকির জানান, জরাজীর্ণ সড়কে ট্রাক চালানোর সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখা কঠিন। প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। 

মাদারীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি ফাইজুল শরীফ জানান, এই সড়কে আগে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতো। ২০০৮ সাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সড়কের এক অংশ ভালো থাকলে আরেক অংশ খারাপ থাকে। এতে করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। 

কালিরবাজারের ব্যবসায়ী মোহসিন জানান, টেকেরহাট, চরমুগরিয়া বা মাদারীপুর থেকে মালামাল আনা নেওয়ায় খরচ বেশি হয়ে যায়। এতে লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, চলতি অর্থ বছরে ৪০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৭ কিলোমিটার সড়কের মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটির বেহাল দশা। সড়কটি একসাথে সংস্কার করা দরকার। ফান্ড না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। 

তিনি বলেন, ‘সড়কের একাংশ সংস্কার করা হলে অপর অংশ ভেঙে যায়। প্রথম অংশ সংস্কারের ৭/৮ বছর পরে শেষের অংশ সংস্কার করা হয়। এতে করে কোথাও না কোথাও খানাখন্দ থেকেই যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এক সঙ্গে সংস্কার করার জন্য।’ 

মাদারীপুর/সনি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়