RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

খাতা-কলম কিনতে আর শাপলা বেচতে হবে না সেই রাব্বিকে

শাহীন আনোয়ার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২৩ অক্টোবর ২০২০  
খাতা-কলম কিনতে আর শাপলা বেচতে হবে না সেই রাব্বিকে

খাতা-কলম কেনার জন্য বিলের মধ‌্যে গলা পানিতে নেমে আর শাপলা তুলতে হবে না। রোদের মধ্যে হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বসেও থাকতে হবে না। ‘কুড়ি টাহা বেচতি পারলি তাইদে খাতা-কলম কেনব’ বলে হা-হুতাশও করতে হবে না। 

জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডিতে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ‘কুড়ি টাহা বেচতি পারলি তাইদে খাতা-কলম কেনব’ শিরোনামে স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সাড়া পড়ে। কানাডা প্রবাসী, প্রবাসীদের অনলাইন সংগঠন ‘প্রবাসী বন্ধু’সহ তিন দয়াবান ব্যক্তি রাব্বি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পোয়াইল গ্রামে রাব্বির বাড়িতে গিয়ে এক বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ‌্য কাগজ, কলম, খাতা, রংপেন্সিল ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন তারা।

পরে মাগুরার আবালপুরের বাসিন্দা কানাডা প্রবাসী সৈয়দ শামসুজ্জামান চাতক তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কেক কেটে রাব্বিদের বাড়িতে নিজের জন্মদিন পালন করেন। এছাড়া তিনি রাব্বির জন‌্য স্কুলব্যাগ, রাব্বির মা-বাবার জন্য চাল ও নতুন জামাকাপড় প্রদান করেন। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা সমাজসেবক রাব্বির স্কুল রাহুড়িয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জিয়াউল হক বাচ্চু, আমিনুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব রেজা বিকো, বসুরধুলজুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম, ধোয়াইল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও রাজিব শিকদার।

রাব্বির বাড়ি সদরের পোয়াইল গ্রামে। বাবা কাবুল শেখ দরিদ্র দিনমজুর। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাব্বি দ্বিতীয়। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। রাব্বি সদরের লাহুড়িয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। 

রাব্বি জানায়, কাগজ-কলমসহ উপহার পেয়ে রাব্বি দারুণ খুশি। তাকে আর শাপলা বিক্রি করতে হবে না। সে পড়া-লেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়।

রাব্বির বাবা কাবুল শেখ বলেন, ‘গরিব মানুষ। জন বেচে খাই। কী করব ভাই? আমার ছেলেকে আর শাপলা বেচতি পাঠাবো না। সে এখন থেকে লেখা-পড়া করবে।’ 

রাব্বির মা জেসমিন বলেন, ‘আমি চাই আমার মনি লেহাপড়া করুক। স্কুল বন্ধ থাকলিও ওরে আর নাইল বেচতি পাঠাবো না।’ 

মহম্মদপুর সদরের আমিনুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব রেজা বিকো জানান, দারিদ্রতার জন্য যাতে রাব্বিদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে না যায় এদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। রাব্বির পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাগুরা/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়