RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

৫ কিলোমিটার সড়কে ২০টি বাঁশের সাঁকো

নেত্রকোনা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৭, ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১১:২৫, ২৭ অক্টোবর ২০২০
৫ কিলোমিটার সড়কে ২০টি বাঁশের সাঁকো

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুরে মাত্র ৫ কিলোমিটার সড়কে রয়েছে ২০টি সাঁকো। এতে ১২টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোন লাভ হচ্ছে না।

একটি সাঁকো পার হয়ে কিছুদূর এগুতেই আর একটি সাঁকো। তাও আবার নড়বড়ে। বাঁশ বিছিয়ে তৈরি এসব সাঁকোর কোন কোনটির নিচ দিয়ে বইছে প্রবল স্রোত। এপার-ওপার হওয়ার সময় নিচে পড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসী জানান, বারহাট্টার রায়পুরের এই পুরনো সড়কটি এলাকার ঝাউয়াইল, শিমুলিয়া, মাইঝপাড়া, পারুয়া, নগদাপাড়া, হাপানিয়া, চাকুয়া, চিচড়াকান্দা, রায়পুর, কান্দাপাড়া, তিলসিন্দুর, গাইকুড়িবরসহ ২০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।  দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ভাঙাখাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটা খাদের ওপর বাঁশ রেখে সাঁকো তৈরি করে পথ চলছেন স্থানীয়রা। 

বারবার সাঁকো পার হওয়ার দুর্ভোগে এলাকাবাসী এখন অতিষ্ঠ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। শিশু শিক্ষার্থীরা সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে অনেক সময় কাপড় ভিজে বই-খাতা হারায়। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারায় চরম দুর্ভেোগ পোহাতে হয়।

এলাকার একাধিক এলাকাবাসীই আলাপকালে এই সাঁকো কষ্টের কথা জানান। 

মালেক বেগম একজন পথচারী বলেন, ‘একটু পর পর সাঁকো পার অইতে আর ভাল্লাগেনা। কোন সময় পইড়্যা যাইয়া কাপড়-চোপড় ভিজে যায়। সাঁকো পার হতে গিয়ে আতঙ্কে থাকি। পোলাপান নিয়া কি যে সমস্যা অয়।’

স্থানীয় ছাত্তার মিয়া বলেন, ‘বাড়িত বইয়া থাহন যায় না, কাজ-কামের লাইগ্যা বাইর অইতে অয়। কষ্ট কইর্যাই যাওয়া-আসা করি।  এলাকায় ৭টি প্রা্ইমারি, ৬টি মাদরাসা, একটি হাইস্কুল ও একটি কলেজ রয়েছে। ওই সমস্ত স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার ১২ গ্রামের ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। তাদের দুর্দশা লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটির সংস্কার প্রয়োজন।’

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রতন কুমার সাহা বলেন, গত ১৯৯২-৯৩ সনে সড়কের কিছুটা কাজ করা হয়েছিল। এরপর আর কিছুই করা হয় নাই। দ্রুত সড়কটি সংস্কার হলে জনগণের চলাচলসহ যানবাহন চলাচল সহজ হতো।

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোরশেদ বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন হাতে এসেছে। আবেদনটি জেলা প্রশাসকের বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

দেবল চন্দ্র দাস/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়