RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২১, ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২২:২৭, ২৭ অক্টোবর ২০২০
ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে তার পরিবার। তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ওই নবজাতকের দাদি নোয়াখালীর সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিথীকা রাণী হাওলাদার (৪৮), গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. লাইনুন নাহার, ইন্টার্ন চিকিৎসক নাছিরসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টায় বেগমগঞ্জের হাজীপুর ইউনিয়নের তাহেরা বেগম (৫১) তার সন্তানসম্ভবা পুত্রবধূকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করান। কিন্তু হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিথীকা রাণী হাওলাদারকে বার বার ডাকা সত্ত্বেও তিনি ঘুম থেকে ওঠেননি। একপর্যায়ে বিথীকা ঘুম থেকে ওঠেন এবং ইন্টার্ন ডা. নাছির ও আয়া মারজাহানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে জানান, তাদেরকে টাকা দিলে তারা নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করবেন। টাকা না দিলে প্রাইভেট হাসপাতালে নিতে হবে রোগীকে। এ সময় গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. লাইনুর নাহারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি হাসপাতালে আসেননি। ওই সময় ম্যাটসের ছাত্র নাইম ওই সন্তানসম্ভবা নারীর লজ্জাস্থানের ভিডিও করেন। তাহেরা বেগম প্রতিবাদ করলে নাইম জানান, তার ট্রেনিংয়ের জন্য এ ভিডিও পয়োজন। সিনিয়র চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সহকারী আয়া ও ম্যাটসের ছাত্রকে দিয়ে ডেলিভারি করানো হয়।

নবজাতকের ঘাড় ধরে টেনে বের করায় তার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে এবং রক্ত জমাট বাঁধে। প্রসবের ২-৩ মিনিটের মধ্যে ওই নবজাতক ছেলে শিশু মারা যায়।

তাহেরা বেগম তার পুত্রবধূর শরীর থেকে বের হওয়া রক্তের ছবি ফোনে ধারণ করলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে রোগীর কাগজপত্র লুকিয়ে ফেলা হয়।

এসব বিষয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নিতে অসম্মতি জানায়। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৈয়দ মো আবদুল আজিম বলেছেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

সুজন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়