RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১০ ১৪২৭ ||  ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করতোয়া এখন নালা

এনাম আহমেদ, বগুড়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ৬ নভেম্বর ২০২০  
করতোয়া এখন নালা

করতোয়া নদী দখলদারদের প্রভাবে ধুকে ধুকে নিঃশেষ হবার পথে। এর সঙ্গে বর্জ্য ফেলায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে। দখল আর দূষণে মরে গেছে নদী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমানা থেকে বগুড়া শেরপুর উপজেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত করতোয়া নদীর পরিধি ১২৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে শহরের ১৩ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে করতোয়া নদী। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার নিচু জলাভূমি থেকে উৎপত্তি হয়েছে করতোয়া নদী। দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে রংপুরের বদরগঞ্জ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করেছে এ নদী। করতোয়া বগুড়া শহরের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে জেলার শেরপুর উপজেলার চান্দাইকোনায় বাঙালি নদীতে গিয়ে মিলেছে। উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে দখল আর ভরাটের কারণে এটি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। 

সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে বন্যার সময় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের খুলশিচাঁদপুর এলাকায় বাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে করতোয়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। সে সময় ওই অংশে করতোয়ার মূল স্রোত একটি শাখা নদীর মাধ্যমে বাঙালি নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এতে গোবিন্দগঞ্জ থেকে ভাটির দিকে, অর্থাৎ বগুড়ার দিকে করতোয়া নদীর প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে দিনে দিনে সরু খালে পরিণত হয়। একদিকে পানি শূন্যতায় প্রবাহ বন্ধ, অন্যদিকে ভরাট আর দখলের ফলে নদীটি এখন মৃত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, করতোয়ার দুইপাশে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় স্থাপনা। বাঘোপাড়া উত্তরপাড়া গ্রামের নান্টু মিয়া বলেন, নদী দখল করে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই গ্রামের রেশমী বেগম বলেন, আবর্জনার দুর্গন্ধে অসহনীয় অবস্থার মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় বগুড়ার পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আবর্জনা ফেলার জন্য এমন জায়গায় ডাম্পিং স্টেশন করা দরকার যেখানে কোনো জনবসতি নেই। লোকজনের চলাচল নেই। ঐ স্থানে আবর্জনা ফেলার কারণে নদী এবং পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নামে একটি প্রক্রিয়া আছে। এটাতে আবর্জনাকে রিফাইনিং করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে। যেটা দেশের বিভিন্ন জেলাতেই করছে এখন। পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। 

বগুড়া পৌরসভার মেয়র একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, আমাদের মাটিডালি এলাকায় ১২ বিঘার একটি ভাগাড় আছে। ওটা প্রায় ৫০ বছর আগের। আমরা আবর্জনা ওখানে ফেলতাম। কিন্তু এখানে ময়লা না ফেলার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়েছিল। আমরা এর জবাবও দিয়েছি। এছাড়া আমরা নেদারল্যান্ডের সঙ্গে এমওইউ করেছিলাম। তারা এই আবর্জনা থেকে গ্যাস বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে। এটা মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। মন্ত্রণালয়ে কাজ চলছে। আবর্জনাকে রিফাইনিং প্রক্রিয়ায় না আনা পর্যন্ত এই সমস্যাগুলো থেকেই যাবে।

টিএমএসএসর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা হোসনে আরা বেগম বলেন, আবর্জনা যেখানে ফেলা হচ্ছে, এর পাশেই আমাদের ইউনিভার্সিটি আছে। দুর্গন্ধের কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। 

বগুড়া সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বীর আমির হামজা বলেন, তালিকা অনুযায়ী গত বছর করতোয়া নদী থেকে ২৮টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে নদী পরিমাপ করা জরুেরি। নদী পরিমাপ করার জন্য গত জেলা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয় থেকে যৌথ সার্ভে করে পরিমাপ করতে হবে। এরপর নদীর অংশে যে স্থাপনাগুলো পাওয়া যাবে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। নদী রক্ষায় এবং এর সৌন্দর্যবর্ধণের জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, নদীতে অবৈধ দখলকারীদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পানি উন্নয়ন বোর্ড উদ্যোগ নিচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক নয়। গত বছর তালিকা অনুযায়ী কিন্তু বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে অর্থের বরাদ্দ না থাকায় কিছু উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি।  নদীর জায়গা যদি কেউ দখল করে থাকে তবে আমরা সেটিকে উচ্ছেদ করবো। 
 

বগুড়া/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়