RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১১ ১৪২৭ ||  ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

‘শরীর আর চলে না, একটু সাহায‌্য করেন’

মামুন চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩২, ২২ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫১, ২২ নভেম্বর ২০২০

হাত দিয়ে খেতে পারি না। হাঁটতে গেলে ক্র্যাচ ব্যবহার করতে হয়। শরীর আর চলে না। আমাকে একটু সাহায‌্য করেন, না হলে যে মরে যাবো।

হবিগঞ্জের অসহায় মটাই মিয়া (৭০) খুব বিনয়ের সঙ্গে এই কথাগুলো বলছিলেন। শরীরে না কুলালেও সকাল হলেই তাকে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের স্টেশন ভবনের গেইটে হুইল চেয়ারে বসে ভিক্ষা করতে হয়।

কিন্তু এমন করুণ অবস্থা ছিলো না মটাই মিয়ার। জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়িতে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হয়েছিল তার। সেসময় তার অভিভাবকরা ছিলেন উচ্চ বিলাসী। অনেক জমিজমা থাকলেও কারণে-অকারণে টাকা পয়সা খরচ করায় অল্পদিনেই তাদের ধন সম্পদ ফুরিয়ে যায়। জমিজমা হারিয়ে তিনিসহ তার স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েন।

অবশেষে এলাকায় বিভিন্ন কাজ করে কোনো রকমে জীবন চলছিল তার।  হঠাৎ একদিন উপজেলার ধুলিয়াখালে বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর হাত-পা অচল হয়ে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হন তিনি কিন্তু কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। অসহায় মটাই মিয়া আরও অসহায় হয়ে গেলেন। তখন তার জীবন চলা দায়। বাধ‌্য হয়ে বেছে নেন ভিক্ষার ঝুলি। সেই থেকে ভিক্ষা করে চলছেন তিনি।

তার স্ত্রী বানেছা বেগমও (৬২) তার সঙ্গে ভিক্ষা করতেন। কিছুদিন আগে বানেছা পা পিছলে পড়ে আহত হন। চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। এতে তার আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মটাই একাই স্টেশনের প্লাটফর্মে হুইল চেয়ারে বসে ভিক্ষা করেন। এতে প্রচণ্ড অভাব অনটনে তাদের সংসার চলছে। 

অসহায় মটায় জানান, রেলওয়ে জংশনের বস্তিতে একটি ঝুপড়ি ঘরে মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়াতে থাকেন তারা। বর্তমানে তারা দুইজন অসুস্থ। তাদের চিকিৎসার জন্য টাকা প্রয়োজন। এছাড়া, বানেছার জন‌্য প্রয়োজন  একটা হুইল চেয়ার। কিন্তু টাকার জন‌্য কিছুই হচ্ছে না তাদের।

বানেছা বেগম বলেন, ‘আমাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। সেখানে কিভাবে চিকিৎসা করাবো। বস্তিতে শীত পড়েছে। আমাদের কোনো শীতবস্ত্রও নেই। ঘরে খাবার নেই। আমার স্বামী সারাদিন ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়ে বাড়ি ভাড়া দেবার পর আর খাওয়া খরচ থাকে না। আমাদের কোনো ছেলেমেয়েও নেই যে তারা আমাদের দেখবে। কেউ যদিও কিছু টাকা দিতো। তাহলে চিকিৎসা করাতে পারতাম। আর একটা হুইল চেয়ার কিনতাম। তাহলে দুজনে একটু ভালো থাকতাম।’

জংশনের লেবার সরদার হুমায়ূন মিয়া বলেন, ‘মটাই মিয়া অসহায় হয়ে পড়েছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। তার পাশে সবাইকে দাঁড়ানোর জন্য আহবান করছি।’

হবিগঞ্জের বাসিন্দা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর আজীবন সদস্য ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, ‘এ দুইটি অসহায় মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সবাই কিছু কিছু দিলে তারা চিকিৎসা করাতে পারবেন। একটা হুইল চেয়ার কিনতে পারবেন। তাহলে দুটো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকবেন। আসুন সবাই মিলে মটাই মিয়া ও বানেছা বেগমের পাশে দাঁড়াই।’

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গাজীউর রহমান ইমরান জানান, জংশনে গেলে মটাইকে দেখা যায়। তিনি অসহায় অবস্থায় আছেন। তার পাশে থাকতে হবে। যাইহোক উপজেলা ও ইউএনও সাহেবকে বলে কিছু একটা করার চেষ্টা করার চেষ্টা করবো।

হবিগঞ্জ/বুলাকী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়