RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১৪ ১৪২৭ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: প্রস্তুতিহীন নোয়াখালীর কোভিড হাসপাতাল

মাওলা সুজন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৩, ২৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:১৬, ২৪ নভেম্বর ২০২০
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: প্রস্তুতিহীন নোয়াখালীর কোভিড হাসপাতাল

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ দরজায় কড়া নাড়ছে। এ নিয়ে দেশব‌্যাপী চলছে নানা তোড়জোড়। করোনার ঢেউ কড়া নাড়লেও তোড়জোড়ের ঢেউ এখনও এসে পৌঁছেনি নোয়াখালীতে। বরং নানা সঙ্কটে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে নোয়াখালীর ১২০ শয্যার কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে। 

এ অবস্থায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় বিশেষায়িত হাসপাতালটি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন খোদ চিকিৎসকরাও।

জেলা শহরের মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালটিতে গত ১৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি দুটি ভেন্টিলেটর ও তিনটি হাইপ্লো নেজাল ক্যানোলা সম্বলিত আট শয্যার একটি হাই কেয়ার ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তবে জনবল ও আর্থিক সঙ্কটে শুরুতেই সব আয়োজন মুখ থুবড়ে পড়ে। বরাদ্দ না থাকায় উদ্বোধনের পরের সপ্তাহ থেকে সিলিন্ডারগুলো রিফিল করা যাচ্ছে না। 

এ কারণে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হয়ে আছে। দক্ষ জনবলের অভাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া দুটি ভেন্টিলেটর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তিনটি হাইপ্লো নেজাল ক্যানোলা এবং হাই কেয়ার ইউনিটের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে আছে।

অন্যদিকে বরাদ্দ না থাকায় রোগীদের খাবার ও চাহিদা মতো ওষুধ সরবরাহ করতে না পারায় চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে।

জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি ড. ফজলে এলাহী খান জানান, শুরু থেকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং আউট সোর্সিং ১৭ জন কর্মী দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু আউট সোর্সিং জনবলের জন্য এ পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ আসেনি। এ কারণে তাদের সবাই চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। জুন মাস থেকে সব ধরনের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে চিকিৎসক, নার্স এবং রোগীদের থাকা খাওয়া ও ওষুধ সরবরাহ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাস জানান, হাসপাতালটিতে কোভিড সংক্রমণের প্রথম দিকে গড়ে ৭০/৮০ জন রোগী ভর্তি ছিল। এখন তা ৪/৫ জনে নেমে এসেছে। ৮০ বেডের এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৬০ বেড ও সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ২০ বেডের আইসোলেশন ইউনিট রয়েছে। আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর চালু না হওয়ার আগ পর্যন্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়।

সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ মাসের শেষের দিকে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভেন্টিলেটর দুটি চালু করা যাবে। এছাড়া বরাদ্দ পেলে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও সচল করা যাবে।’

জেলার সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার আওতাধীন জেলার আটটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। প্রত্যেক স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ১০ বেড করে ৮০ বেডের আইসোলেশন ইউনিট চালু আছে। এরমধ্যে সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে দুটি করে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর এবং ১০ বেডের চাটখিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু আছে। এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদের সুরক্ষা সামগ্রী এবং অক্সিজেন সংকট নেই।’

এদিকে শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা আলোচনায় থাকলেও সংক্রমণকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না জেলার অধিকাংশ মানুষ। সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা, মাস্ক পরতে ৭০ ভাগ মানুষের অনিহা। সরকারি বিধি নিষেধ ও স্বাস্থ্য বিধি না মানার প্রবণতা সর্বত্র। 

গত আগস্ট মাসেও জেলার আবদুল মালেক মেডিক‌্যাল কলেজ ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এখন এ সংখ্যা চার থেকে পাঁচশ’। এর মধ্যে ৮০ ভাগ বিদেশগামী।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, করোনার সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যাবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসহ জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া ‘মাস্ক ব্যাবহার না করলে সেবা দেওয়া হবে না’ এটি নিশ্চিত করতে এখন থেকে নিজ দপ্তরের প্রবেশ পথে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাস্ক ব্যাবহার ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কোভিড হাসপাতালে বেড সংখ্য বাড়ানো এবং প্রত্যেক উপজেলায় ১০ বেডের পূর্ণাঙ্গ অক্সিজেন সিস্টেম ও আইসোলেশন সিস্টেম চালু করাসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

নোয়াখালী/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়