RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১৪ ১৪২৭ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রঙিন রুই-তেলাপিয়া চাষে হাফিজের সাফল‌্য

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২৭ নভেম্বর ২০২০  
রঙিন রুই-তেলাপিয়া চাষে হাফিজের সাফল‌্য

মাছের খামারে খাবার দিচ্ছেন হাফিজ

পীর খানজাহানা আলী (রহ:) এর অমর সৃষ্টি ষাট গম্বুজ মসজিদ ও দরগাহ এর মধ্যবর্তী গ্রামটির নাম সুন্দরঘোনা কাঁঠালতলা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাট গম্বুজ ইউনিয়নের পরিধির মধ্যে গ্রামটি। এখানেই ১৭ বছর আগে গড়ে উঠেছে ‘নাইম মৎস্য খামার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. হাফিজুর রহমান। তার উৎপাদিত রঙিন রুই ও তেলাপিয়া মাছ সাড়া জাগিয়েছে।

তিনি উৎসাহিদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন স্বল্প পরিসরে রঙিন রুই ও তেলাপিয়া চাষ করে বছরের মাথায় লাখপতি হওয়া যায়। তিনি বিভিন্ন মাছের পোনা নার্সিং করে খামার মালিকদের কাছে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

২০০৩ সাল থেকে হাফিজুর রহমানের এ মৎস্য খামারের যাত্রা শুরু। প্রথমে ২০ বিঘা জমির ওপর বাগদা চিংড়ি চাষ করে লোকসানের সম্মুখীন হন। সিপি কালচার চাষ করেও সফলতার মুখ দেখতে পারেননি। এরপর সাদা মাছের ডিম ফুটিয়ে নার্সিং শুরু করেন। কই, শিং, মাগুর, পাবদা, রঙিন রুই (অস্ট্রেলিয়ান), বিভিন্ন রংয়ের তেলাপিয়ার ডিম ফুটিয়ে নার্সিং করেন। গত বছর ২০ লাখ কই এর পোনা উৎপাদন করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মৎস্য চাষিদের মাঝে বিক্রি করেন। এ অঞ্চলে ভিয়েতনামি কই এর চাহিদা আছে। বরিশাল, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ ও কয়রা এলাকায় তার খামারে উৎপাদিত পোনার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, ২০ শতক জমির ওপর মনোসেক্স তেলাপিয়া নার্সিং, পাঁচ শতক জমির ওপর রঙিন তেলাপিয়া, ৪০ শতক জমির দুই অংশে শিং ও রঙিন তেলাপিয়া, দশ শতক জমির ওপর রুই, ৫০ শতক জমির ওপর কাতলা-মৃগেল ও চারটি পুকুরের ৫২ শতক জমিতে কই এর পোনা নার্সিং করে সফলতা পেয়েছেন। পরিবারের লোকজন তার এ কাজে সহযোগিতা করেন।

তিনি জানান, মূলতঃ তার খামারের পিছনে তার চারটি উদ্দেশ্য রয়েছে। উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মৎস্যখাতে সমৃদ্ধি আনা, চাষিদের লাভবান করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাব পূরণ করা।

সৃজনশীল এ ব্যক্তি জানান, সাত শতক জমির ওপর কই চাষ করে যে কোনো যুবক স্বাবলম্বী হতে পারবে। বছরে লাখ টাকা আয় করাও সম্ভব।

তিনি আরও  জানান, রঙিন রুই ও রঙিন তেলাপিয়া এক বছরের মধ্যে প্রতিটির ওজন এক কেজিরও বেশি হতে পারে। তবে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। তাপমাত্রার দিকেও নজর রাখতে হবে। রঙিন রুই ও তেলাপিয়া এ অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়েছে। তিনি বেকার যুবকদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন রুই ও তেলাপিয়া চাষ করে বছরে লাখপতি হওয়া সম্ভব।

খুলনা/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়