RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১৪ ১৪২৭ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দিরাইতে দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে আ.লীগের ৩, বিএনপিরও ৩

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৯, ২৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:৩০, ২৭ নভেম্বর ২০২০
দিরাইতে দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে আ.লীগের ৩, বিএনপিরও ৩

২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন।  হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার ভোটও এই ধাপে। অবশ্য এই পৌরসভায় এটি চতুর্থ নির্বাচন। 

মেয়র পদে দলীয় প্রতীক পেতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাপ চলছে। অন্যদিকে ৯টি ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে এরই মধ্যে প্রচারে নেমে গেছেন।

মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়া, পৌরসভার তিনবারের কাউন্সিলর দিরাই কলেজের সাবেক ভিপি বিশ্বজিৎ রায় এবং আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ উল্লাহ। দলীয় মনোনয়ন পেতে তারা লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বর্তমান মেয়র মোশাররফ মিয়া মামলায় জড়িয়ে পড়ায় মনোনয়ন দৌড়ে বিশ্বজিৎ রায় এগিয়ে আছেন।

বিএনপি থেকে গত দুই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর ভাই জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল কাইয়ূম ও সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে অনন্ত মল্লিক ও স্বতন্ত্র হিসেবে সমাজকর্মী রশীদ মিয়া আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায় বলেন, তৃণমূলের রাজনীতি থেকে আমি টানা তিনবার পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলাম।  দুইবার প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি।  পাশাপাশি আমার ১৯ বছরের জনপ্রতিনিধি করার অভিজ্ঞতা থেকে এবার জনগণের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা আমাকে চাচ্ছেন তাই এবারের প্রথম দফা নির্বাচনে আমি দলীয় নৌকা প্রতীক পাওয়ার আশা করি। 

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।  আশা করি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী রশীদ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা অবস্থায় দেশের মানুষের সেবা করার জন্য প্রবাস জীবন ছেড়ে চলে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে আমি পৌরবাসীর সেবা করে আসছি।  পৌরবাসী চায় আমি মেয়র পদে নির্বাচন করি।  পৌরবাসীর কথা রাখতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো।

১৯৯৯ সালে হাওরবেষ্টিত দিরাই উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়।  উপজেলা সদরের ১৭টি গ্রাম নিয়ে এই পৌরসভা গঠিত।  সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী বর্তমানে ৯টি ওর্য়াডে দিরাই পৌরসভায় লোকসংখ্যা ৩২ হাজার ১৫৪ জন।  ৬.৫ বর্গমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় বর্তমান ভোটার ২১ হাজার ৩শ ৭৯ জন।  এর মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৫শ ৫২ ও নারী ১০ হাজার ৮শ ২৭ জন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে প্রথম নির্বাচনে দিরাই পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজি আহমদ মিয়া। ২০১১ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত আজিজুর রহমান বুলবুল। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে  আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন বর্তমান মেয়র মোশাররফ মিয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।

এদিকে গত বুধবার (২৫ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদারের সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী সভার সম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থীর নামই জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়।

আল আমিন/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়