Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৮ ||  ১৭ সফর ১৪৪৩

টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি: বিপাকে কৃষক

আবু কাওছার আহমেদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩১, ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২২:৫৮, ২৮ নভেম্বর ২০২০
টাঙ্গাইলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি: বিপাকে কৃষক

টাঙ্গাইলের বাজারগুলোতে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে- আটশ’ টাকা মূল্যের ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সারের বস্তা এক হাজার থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১১০০ টাকার ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। 

সার কেনার পর রশিদ চাইলে ডিলার কোনো রশিদ দিচ্ছে না। রশিদ দিলেও তাতে সরকার নির্ধারিত দাম উল্লেখ করা হয়। বাড়তি দাম রাখলেও সেটা চেপে যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা না মেনে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে ডিলাররা। 

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আহসানুল বাশার জানান, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। সুনির্দিষ্ট ডিলারের নাম বললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, গত প্রায় দুই মাস ধরেই বাজারে ডিএপি সারের দাম বাড়ছে। প্রতি বস্তা ডিএপি সারের দাম সরকার নির্ধারণ করেছে আটশ’ টাকা। জেলা পর্যায়ের ডিলার ৭৫০ টাকায় এই সার সাব ডিলারদের কাছে বিতরণ করবে। কিন্তু টাঙ্গাইল জেলার ডিলাররা এ নীতিমালা না মেনে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সাব ডিলাররা সে সার ১১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডিলারদের নন ইউরিয়া সার যাতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয় সেজন্য সতর্ক করে চিঠি দিয়েছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে অবাধে বর্ধিত দামে সার বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার লাউজানা গ্রামের কৃষক হালিম মিয়া বলেন, ‘এ বছর সরিষা চাষের জন্য ডিএপি’র এক বস্তা সার ১৫৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এ ছাড়াও টিএসপির এক বস্তার সার ১৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। রশিদ চাইলে দোকান থেকে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।’

ভাটচান্দা গ্রামের কৃষক মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘শুনেছি সরকার সারের দাম কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কিনতে গেলে দেখছি দাম বেশি। এক হাজার টাকার নিচে ডিএপি সার পাওয়া যায় না। অপর দিকে ১৩০০ টাকার নিচে টিএসপি সার পাওয়া যায় না। তাহলে আমরা কীভাবে চাষ করবো? ফসল চাষের প্রায় অর্ধেক খরচ সারেই চলে যায়।’

সার ডিলার ধরেরবাড়ীর হারুন এন্টার প্রাইজের মালিক মো. কবির হোসেন বলেন, ‘ডিএপি সার তিন ধরনের। একটি ৯৫০ টাকা আরেকটি ১২০০ ও অপরটি ১৫৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার ডিএপি সারের দাম ৮০০ টাকা নির্ধারণ করলেও আমাদের বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হয়। এছাড়া গাড়ি ভাড়া আছে। যে কারণে সরকারের নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার সার ডিলার মো. রোকন উদ্দিন বলেন, ‘ডিএপি সার যথাক্রমে ৯০০, ৯৫০ ও ১৪৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’
বিএডিসি বীজ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি দামে সার বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। তবে কেতউ কোনো অভিযোগ করেনি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এরপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার বলেন, ‘ডিলারদের যেটুকু ডিএপি ও টিএসপি সার দেওয়া হয় তা খুবই কম। ডিলারদের বাইরে থেকে বেশি দামে এসব সার কিনতে হয়। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এসময় কৃষি পুনর্বাসনের সার বিতরণের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। শিগগিরই এ সমস্যা আর থাকবে না।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জিয়াউর রহমান জানান, দাম বেশি নেওয়ার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিলারদের সতর্ক করে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি রুটিন ওয়ার্ক। প্রতি বছর এসময় সতর্ক করে ডিলারদের চিঠি দেওয়া হয়।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল বাশার জানান, বর্র্ধিত দামে বিক্রির বিষয়টি জানা নেই। নির্দিষ্ট করে ডিলারদের নাম বললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল/সনি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়