RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৫ ১৪২৭ ||  ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রাথমিকভাবে যশোরসহ দেশের ১০টি জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ০১:০৩, ৪ ডিসেম্বর ২০২০
প্রাথমিকভাবে যশোরসহ দেশের ১০টি জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু শনিবার

করোনাভাইরাস সংক্রমিতদের শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাটি নির্ভূলভাবে করার জন্য প্রশিক্ষিত ডাক্তার এবং টেকনোলোজিস্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যশোরের সাথে আরও নয়টি জেলায় শনিবার থেকে একযোগে পাইলটিং হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) পরীক্ষার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে। যশোর জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষাটি করা যাবে শুধু যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নমুনাও দিতে হবে সেখানকার বুথে। মাত্র একশ’ টাকা ফি জমা দিয়ে পরীক্ষাটি করানো যাবে। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমিতদের শনাক্তে আরটি পিসিআর পরীক্ষা চলমান রয়েছে। অধিক সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করার ফলে প্রত্যেকটি ল্যাবে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনক্রমে সরকার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যশোর জেলায় কার্যক্রমটি চালু হচ্ছে। সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোডিট ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী মেডিকেল অফিসার অনুপম দাস অ্যান্টিজেন পরীক্ষার বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। শনিবার থেকেই যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পরীক্ষাটি শুরু হবে। তবে সবার ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন পরীক্ষাটি করা হবে না। শুধুমাত্র যাদের মধ্যে পাঁচ থেকে সাতদিন ধরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ (জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, স্বাদ-গন্ধ নেয়ার ক্ষমতা লোপ পাওয়া) আছে প্রাথমিকভাবে তাদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হবে। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে কি না, তা দ্রুততম সময়ে জানার পদ্ধতি হল অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। এ পরীক্ষাটি করার জন্য নাক বা মুখ গহ্বর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রথম অবস্থায় ৫শ’টি কিট দেয়া হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের জন্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও পরীক্ষাটি নির্ভূলভাবে করার জন্য প্রশিক্ষিত ডাক্তার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনায় সংক্রমিত সন্দেহভাজনদের দু’টি নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রথম দফায় করা হবে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে তার সংক্রমণ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে।

ফলে আরটি-পিসিআর টেস্টের জন্যে তার নমুনা পাঠানো হবে না। অবস্থা বুঝে হাসপাতালে ভর্তি রেখে অথবা বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। অপরদিকে, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসলে ওই ব্যক্তির দ্বিতীয় নমুনা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর রোগীর চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়  নিশ্চিত করেছেন, করোনা দুর্যোগ মোকাবিলার সম্মুখযোদ্ধা ডাক্তার, নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যসেবীর অ্যান্টিবডি পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আইসিডিডিআরবি’র তত্ত্বাবধানে চলতি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অথবা আসছে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অ্যান্ডিবডি পরীক্ষা করা হবে। গত ২৫ নভেম্বর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ২৬ নভেম্বর যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আইসিডিডিআরবি প্রতিনিধি বৈঠক করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গেছেন। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সকলকে পরীক্ষায় আওতায় আনা হবে। ভ্যাকসিন দেয়ার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এ পরীক্ষাটি করানো হবে। প্রতি চার মাস অন্তর অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলোআপ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডাক্তার মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ২ ডিসেম্বর বুধবার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হবে। 

জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে যশোর, মেহেরপুর, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, মাদারীপুর ও সিলেট। সিলেট ছাড়া বাকি জেলাগুলোর সদর হাসপাতালে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

সিলেটে অ্যান্টিজেন পরীক্ষাটি হবে শহীদ শামসুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরীক্ষাটি করার সাথে যারা যুক্ত থাকবেন তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে । 

প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা দশটি জেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তীতে আরও দশটি জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় কার্যক্রমটি চলবে।

রিটন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়